ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

কয়েকটি যুগান্তকারী আবিষ্কারের আবিষ্কারকের জীবনী

টিউন বিভাগ জীবনী
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 4
২য় বর্ষ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা

হ্যালো টিউডার বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালোই আছেন সবাই। বরাবরের মতো আজো নিয়ে এসেছি একটা টিউন। এটা একটা বিখ্যাত মানুষের জীবনী নিয়ে টিউন। আশা করি আপনাদের ভালো লাগার কারণ হবে টিউনটি।

ADs by Techtunes ADs

আমরা আমাদের জীবনে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী পড়েছি বা শুনেছি। আপনারা নিশ্চয়ই টমাস আলভা এডিসন নামটি শুনেছেন। তার জীবনী কি আপনারা সবাই জানেন?

হয়তো অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না। না জানলেও সমস্যা নেই। আজকে আমার এই টিউনে আপনাদেরকে তার সম্পর্কে কিছু জানাতে চলেছি।

টমাস আলভা এডিসন ছিলেন একজন বিজ্ঞানী। তার জীবনের মতো সমৃদ্ধ জীবনী খুব কমই আছে বটে। পৃথিবীতে অনেক সফল মানুষ রয়েছে কিন্তু তার মত সফল ব্যক্তিত্ব খুব কম।

সর্বমোট ১০৯৩ টি আবিষ্কারের আবিষ্কারক তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্তমানের বৈদ্যুতিক বাতি, ভিডিও গ্রাফি এবং সাউন্ড রেকর্ডিং ইত্যাদি। ইতিহাসের সফল ব্যক্তিবর্গের মধ্যে টমাস আলভা এডিসন ছিলেন অন্যতম। হিসাব নিকাশের চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বলা যায় তার রেখে যাওয়া সম্পদের মূল্য আজ ১৭১ মিলিয়ন ডলারের ও বেশি।

অনেক খোঁজার পরেও হয়তো এমন ব্যক্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না যে টমাস আলভা এডিসন কে গুরু মানতে দ্বিধা করবে। স্টিভ জবস এবং ইলন মাস্কের মত জিনিয়াসরা তাকে গুরু হিসেবে মান্য করে।

ইলন মাস্ক বহুবার বলেছে যে তার অনুপ্রেরণা টমাস আলভা এডিসন। আধুনিক যুগের প্রযুক্তির শুরুটা তার হাত দিয়ে এটা মেনে নিতে হবে।

যে ব্যক্তিত্ব প্রায় দশ হাজার বার এর বেশি বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করতে বিফল হয়েছেন এবং তারপরেও চেষ্টা চালিয়ে তিনি সফল হয়ে পৃথিবীর ইতিহাস বদলে দিয়েছেন তার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেয়া বা গরু মানা ভুল কিছু হবে না।

ADs by Techtunes ADs

টমাস আলভা এডিসন এর জীবনী যখন আমি পড়েছি তখন আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি এবং হয়তো কিছু বিষয় শিখেছি তাই আপনাদের তার জীবনী জানাতে আগ্রহী হয়ে নিয়ে এসেছি আজকের এই টিউন। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেওয়া যাক টমাস আলভা এডিসন নামক বিখ্যাত বিজ্ঞানীর জীবনী।

টমাস আলভা এডিসনের জীবনীঃ

টমাস আলভা এডিসন এর সম্পর্কে সামান্য কিছু কথাঃ

একজন সফল উদ্যক্তা, আবিস্কারক বা আমেরিকান বিজ্ঞানি হলেন টমাস আলভা এডিসন। তিনি ১৮৪৭ সালের ১১ ই ফেব্রুয়ারিতে জন্মগ্রহণ করেন। খুবই সাধারণ অবস্থা থেকে তিনি পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে ইতিহাসে বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের তালিকায় নিজের স্থান করে নেন এবং একের পর এক অসাধারণ আবিষ্কার দিয়ে ইতিহাসে পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দেন।

প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ল্যাবরেটরি অব মিলানো পার্ক পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক ল্যাবরেটরি যা টমাস আলভা এডিসন এর হাতে গড়া। আমেরিকার উন্নত অর্থনীতির ও প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন এই বিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন। আর একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কারকদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

১৯৩১ সালের ১৮ই অক্টোবর এই চমৎকারভাবে বিখ্যাত ব্যক্তির জীবনাবাসন ঘটে।

টমাস আলভা এডিসন এর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কারঃ

টমাস আলভা এডিসন ছিলেন সর্বমোট ১০৯৩ টি আবিষ্কারের অধিকারী। সর্বকালের সর্বসেরা আবিষ্কারগুলো যেমন-বৈদ্যুতিক বাল্ব, আধুনিক ব্যাটারি, কিনটোগ্রাফ ক্যামেরা যা প্রথম যুগের ভিডিও ক্যামেরা হিসেবে পরিচিত এবং সাউন্ড রেকর্ডিং ইত্যাদি তার শ্রম ও মেধার অবদান। এসব বিখ্যাত আবিষ্কারের বাইরেও তিনি আরো নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের আবিস্কারক। তিনি যা যা আবিষ্কার করেছেন তার যে সব সফল হয়েছে এমনটাও নয়। তার রয়েছে কিছু অসফল আবিষ্কার ও। আর এসব অসফল আবিষ্কারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০-৬০০। সৃষ্টিকর্তা আশীর্বাদে আর কয়টা দিন বেঁচে থাকলে হয়তো তিনি সেগুলোও সফল করতেন।

টমাস আলভা এডিসন এর শৈশবকালঃ

টমাস এডিসন নামক বিখ্যাত বিজ্ঞানী ১৮৪৭ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি আমেরিকার ওহাইয়ো নামক অঙ্গরাজ্যের মিলানে নামক জায়গায় জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবার নাম ছিল স্যামুয়েল এডিসন। রাজনৈতিক কারণে কানাডা থেকে বিতাড়িত হয়ে আমেরিকায় আসেন। তার মায়ের নাম ছিল ন্যান্সি এডিসন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষিকা ছিলেন। টমাস আলভা এডিসন এর আরো বড় ছয়টি ভাইবোন ছিল। টমাস আলভা এডিসন এর জীবনে তার মায়ের প্রভাব বেশি ছিল।

টমাসের একদম ছোট বেলায় লালজ্বর নামক এক ধরনের জ্বর হয় যার ফলে তার দুই কানে এক ধরনের ইনফেকশন হয় ফলে টমাস অনেক বড় হওয়া সত্ত্বেও কানে প্রায় শুনতেনই না।

১৮৫৪ সালে এডিসন পরিবার স্থানান্তরিত হয়ে মিশিগানের পোর্ট হার্টনে চলে যায় এবং সেখানে টমাসকে স্কুলে অ্যাডমিশন করিয়ে দেয়া হয়। তিনি বেশি একটা সময় স্কুলে অতিবাহিত করেন নি। তার অতিবাহিত স্কুলের সময়কাল আনুমানিক ১২ সপ্তাহ বা ৩ মাস।

ADs by Techtunes ADs

তিনি যেমন অমনোযোগী ছিলেন তার চেয়ে বেশি ছিলেন দুষ্ট যার ফলে তার স্কুল থেকে প্রতিনিয়ত নালিশ আসতো তার মায়ের কাছে। টমাস আজেবাজে প্রশ্ন করতো এছাড়াও পরীক্ষায় বাজে ফলাফল করতো। একদিন শিক্ষক টমাসের মাকে একটা চিঠি দিয়ে টমাসকে স্কুল থেকে বের করে দিলেন। টমাসের মা বারিতে এসে উচ্চসরে চিঠি পরছেন এভাবে, আপনার ছেলে ভয়ানক মেধাবী। আমাদের স্কুলে এমন কোন শিক্ষক নেই যে আপনার ছেলেকে শিক্ষা দান করবে। আপনি এর চেয়ে উন্নত কোন স্কুলে আপনার ছেলেকে শিক্ষা দিন না হয় আপনি নিজে তাকে শিক্ষা দিন।

চিঠি উত্তর টমাস শুনে তার মন গর্বে ভরে যাচ্ছিল। কিন্তু সত্যিকথা বলতে চিঠিতে কি লেখা ছিলো জানেন? তা হলো আপনার ছেলে মানসিক ভাবে প্রতিবন্ধী। আমরা আপনার ছেলেকে পড়াতে পারব না। টমাসের মায়ের এ মিথ্যাই হয়তো আজকের এই টমাসের জন্ম। পরে তার মা ন্যান্সি তাকে একসময় বাড়িতে পড়াতে শুরু করলেন।

ক্লাসে সবসময় আজেবাজে প্রশ্ন জিজ্ঞাস করতেন শিক্ষকের কাছে। তার কয়েকটা প্রশ্ন ছিলো। তিনি জিজ্ঞাস করেছিলেন পাখি আকাশে উড়তে পারে মানুষ পারে না কেন? পাখি যা খায় মানুষকে তা খাওয়ালে মানুষ উড়তে পারবে কি?

তার এ প্রশ্ন গুলো তাকে একবার বিপদে ফেলে দেয়। তিনি একদিন দেখলেন পাখি মাটিতে নেমে পোকামাকড় খাচ্ছে। তো তিনি পোকামাকড় সংগ্রহ করে রসালো জুস তৈরি করলেন। এবং একটা ভোলাভালা মেয়ের কাছে তা নিয়ে গিয়ে বললেন তুই পাখির মতো উড়তে চাষ? মেয়েটি হ্যা বলায় টমাস জুসগুলো মেয়েটিকে খাইয়ে দেয়। ফলে কিছুক্ষন পর মেয়েটির বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়।

এখানেই শেষ নয় তার আর একটা প্রশ্ন ছিলো হাঁস ডিমের উপর বসলে বাচ্চা বের হয় মানুষ বসলে বাচ্চা বের হবে কি?

এই কৌতুহল নিয়ে তিনি একটা ঘরের কোনায় ডিমে তা দিচ্ছিলেন। তার মা তাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সারা গ্রাম ঘুরে এসে দেখেন টমাস খরি রাখার ঘরের এক কোনায় ডিমে তা দিচ্ছে।

১১ বছর বয়সে পা দিতেই এডিসন মনোযোগের সাথে নিজের ইচ্ছাতেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগ্রহের সাথে পড়াশুনা করতে শুরু করেন এটা তার মা লক্ষ করেন। ন্যান্সি টমাসকে তাঁর নিজের যা পড়তে ভালো লাগে তাই পড়ার পুরোপুরি স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং দেখা গেল এতে করে টমাসের পড়ার প্রতি বড় আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ইচ্ছামত জ্ঞান অর্জন করার এই স্বাধীনতাই পরে লিটল টমাস কে টমাস আলভা এডিসন দা গ্রেট ইনভেনটর বানাতে অবদান রেখেছে।

১২ বছর বয়সে টমাস পত্রিকা বিক্রি কর‍তে আগ্রহী হয়ে পরে। ফলে তিনি বাবা মাকে রাজি করানোর চেষ্টা করে। প্রথমে রাজি হতে না চাইলেও পরে টমাসের বাবা মা অনুমতি দেয়। ফলে তিনি গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রেললাইনে পত্রিকা বিক্রী করতে শুরু করে। খবরের কাগজের ছাপাখানায় নিয়মিত কাজ করতে করতে টমাস অল্প দিনের মধ্যেই নিজেকে একটি ছোট নিউজপেপারে প্রকাশ করে ফেলে যার ফলে নাম ছিল দা গ্রান্ড ট্রাঙ্ক হেরাল্ড। সাম্প্রতিক মজার ঘটনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল পত্রিকাটি যা মানুষের মধ্যে দারুন জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষ উদ্যোক্তা হিসেবে টমাসের চলাচল এখানেই শুরু।

টমাস রেল গাড়ির বিভিন্ন বগিতে বিভিন্ন কেমিক্যাল নিয়ে মিশিয়ে এটাওটা করতো। জানিনা এটা কি ছিলো পরীক্ষা না দুষ্টমি না কোন কৌতুহল। এরকমই এক কাজে রেলের ব্যাগেজ বগিতে আগুন ধরে যায়। এরপর ট্রেনের কাজে নিযুক্ত এক লোক দৌড়ে এসে টমাসের কাজ দেখে তার গালে চড় মারে এবং বলে ট্রেনে টমাসের ওঠা একদম নিষেধ।

ADs by Techtunes ADs

এরপর থেকে টমাসের ট্রেনে উঠে পত্রিকা বিক্রী করা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি পরে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে পত্রিকা বেচতে শুরু করে।

চাকরি জীবনঃ

এডিসন রেল স্টেশনে কাজ করার সময় একবার একটি তিন বছর বয়সি বাচ্চাকে ট্রেনের নিচে পরা থেকে বাচিয়ে নেন। বাচ্চাটির বাবা যিনি ছিলেন তিনি একজন টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তিনিই তার বাচ্চাকে বাচানোর কৃতজ্ঞতা স্বরুল টমাসকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে তিনি তাকে টেলিগ্রাফ মেশিন অপারেট করা শেখাতে ইচ্ছুক। ব্যাস এখানেই টমাস শিখতে শুরু করেন এবং অল্প কিছু দিনের মধ্যেই দক্ষ টেলিগ্রাফ অপারেটর হয়ে ওঠেন।

পরের পাঁচ বছর তিনি মধ্য পশ্চিম আমেরিকা ঘুরে বেড়ান তিনি ফ্রিল্যান্স টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে। সেই সময়ে আমেরিকায় চলছিলো সিভিল ওয়ার বা গৃহযুদ্ধ এবং অনেক টেলিগ্রাফ অপারেটরের কাজের প্রচুর সুযোগ ছিলো যুদ্ধে যোগ দেয়ার কারণে। যেই তিনি অবসর পেতেন সেই তিনি প্রচুর পরাশোনা করতেন এবং জ্ঞানী হয়ে ওঠেন। টেলিগ্রাফের প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশুনা এবং গবেষণা করতে করতে তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারেন। ফলে পরবর্তীতে বিজ্ঞানের ইলেক্ট্রিক্যাল সাইন্স শাখাটিতে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন।

১৮৬৬ সালে ১৯ বছর বয়সে বার্তা সংস্থা AP (Associate Press) এ টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে চাকরি করেন তিনি। তার চাকরির ডিউটি ছিলো রাত্রকালে। ফলে টমাস আলভা এডিসন নিজের গবেষণা ও পড়াশুনার জন্য অনেক সময় পেয়েছেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন জিনিস নিয়ে সব সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন। সময়ের তালে তালে তার চিন্তাভাবনা হয়ে এক অমুল্য কিছু।

বেশ কিছু সময়কাল অতিবাহিত হবার পর টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে তার কাজ কমতে শুরু করে। সময়কালটা ছিলো ১৮৬০ সাল। কারণ পুর্বের কাগজে লেখা কোড পড়ে টেলিগ্রাফ অপারেট করতে হতো। পরে যখন যান্ত্রিক শব্দ দিয়ে টেলিগ্রাফ এর অর্থ উদ্ধার করার নতুন প্রযুক্তু। এই প্রযুক্তিতে কানে কম শোনা টমাস আর কাজ করতে পারছিলেন না।

১৮৬৮ সালে টমাস বাড়ি ফিরে যান। অনেকদিন পর বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পেলেন দেখতে পেলেন তার প্রাণপ্রিয় মা ন্যান্সি এডিসন মানসিক রোগীতে পরিনত হয়ে গেছেন। তার বাবাকে কাজ থেকে রিটার্ন দেয়া হয়েছে। সত্যি কথা বলতে টমাসের পরিবার তখন নিয়তির করুন পরিনতির সম্মুখীন হয়েছিলো। টমাস এর বুঝতে বাকি ছিলো না যে এই অবস্থা তাকেই সামাল দিতে হবে।

এক বন্ধুর কথায় টমাস এডিসন বোস্টন নামক এক জায়গায় চলে যান এবং সেখানে গিয়ে বিখ্যাত ওয়েস্টার্ণ ইউনিয়ন নামক কোম্পানী তে কাজ নিয়ে নেন। টমাস আলভা এডিসন এর জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় এখানেই। সেই সময়ে বোস্টন ছিলো আমেরিকার শিল্প ও বিজ্ঞান চর্চার প্রধান কেন্দ্র।

এই বোস্টনে থাকা অবস্থায় তিনি নতুন কিছু আবিষ্কারের চেষ্টা শুরু করেন। তিনি এখানে একধরনের ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) রেকর্ডার তৈরি করেন এবং তার পেটেন্ট নিজ নামে চালিয়ে নেন। কিন্তু তখনকার রাজনীতিবিদরা এটা মেনে নিতে চায় নি। তারা চাননি যে ভোট দেয়ার সঠিক প্রক্রিয়া এত তাড়াতাড়ি হোক। তারা এই প্রক্রিয়া চালু করতে বিপুল সয়য় চেয়ে নেয়।

টমাস আলভা এডিসন এর সফল আবিষ্কারক ও উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পঃ

১৮৬৯ সালে ২২ বছর বয়সী টমাস আলভা এডিসন নিউইয়র্ক শহরে পাড়ি জমিয়ে তার জীবনের প্রথম সফলতার গল্পের সুচনা করেন। তিনি আবিষ্কার করেন একটি স্টক টিকার প্রিন্টার যার নাম দিয়েছিলেন ইউনিভার্সাল স্টক প্রিন্টার।

স্টক টিকার হচ্ছে স্টক বা শেয়ার মার্কেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টক বা শেয়ারের মূল্য ওঠা নামা করার সংকেত। টমাসের এই আবিষ্কারের জন্য কখন কোনটির বস্তুর দাম উঠছে বা নামছে তা খুব সহজে দেখা যেতো। টমাসের প্রিন্টারে একই সাথে অনেকগুলো স্টক দেখা যেত। গোল্ড অ্যান্ড স্টক টেলিগ্রাফ কোম্পানী নামক কোম্পানি তার কাজে দারুন মুগ্ধ হয়ে তাকে ৪০ হাজার ডলার দিয়ে যন্ত্রটির খুব দ্রুত যন্ত্রটি কিনে নেয়। ১৮৭০ সালে ৪০ হাজার ডলার মানে বোঝেন কত টাকা?

ADs by Techtunes ADs

এই সাফল্যের পর টমাসের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি টেলিগ্রাফ অপারেটরের চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি আবিষ্কারক হয়ে যাবেন বলে ঠিক করেন। টমাস আলভা এডিসন প্রথম তার নিজের ল্যাব স্থাপন করেন ১৮৭০ সালে আমেরিকার নিউ জার্সিতে।

সেই ল্যাবে তিনি বেশ কয়েকজন মেশিন অপারেটর যোগ দেন। তার ল্যাবটি আসলে ল্যাব বললে ভুল হবে। আসলে এটা ছিলো একটা ব্যবসায়িক কারখানা। এই কারখানায় তিনি নতুন সব যন্ত্র তৈরী করতে এবং সবচেয়ে বেশি দাম যে দিতে পারতো তার কাছে বেঁচে দিতেন।

যে টেলিগ্রাফ এর সাথে তার জীবন জড়িত ছিলো সেই যন্ত্রের উন্নতিতে তার অবদান রয়েছে। প্রথম ল্যাব থেকেই তিনি কোয়ার্ডার প্লেক্স নামক টেলিগ্রাফ আবিষ্কার করলেন যা একটি তারের মধ্যদিয়ে দুইটি ভিন্ন স্থানে সংকেত পাঠাতে পারতো। যা যুগান্তকারী আবিষ্কার ছিলো সেই সময়ে।

তারপর তিনি আবিষ্কার করেন অডিও রেকর্ডার যা ধনকুবের জে গোউল্ড এর কোম্পানী তার কাছ থেকে নগদ ১ লক্ষ ডলার বেশি মুল্যে কিনে নেয়। যা বর্তমানে হিসাব করলে ২ মিলিয়ন ডলারের কম হবেনা।

১৮৭৬ সালে টমাস তার কার্যক্রম নিউ জার্সির মেনলো পার্ক নামক জায়গায় শুরু করেন। সেখানে তিনি উন্নত ল্যাবরেটরি তৈরি করেন যাতে মেশিন ওয়ার্কশপ ছিলো। এতে ইনডাস্ট্রিয়ালি রিসার্চ করার ফ্যাসিলিটি ছিলো।

সেই বছরই ওয়েস্টার্ণ ইউনিয়ন কোম্পানি তাকে গ্রাহাম বেল এর টেলিফোনের সাথে প্রতিযোগীতা করার মত একটা কিছু তৈরি করতে বলে কিন্তু তিনি অবশ্য তা করেননি। এর কিছুকাল পর তিনি ফোনোগ্রাফ আবিষ্কার করেন যা ছিলো প্রথম কার্যকর অডিও রেকর্ডিং করার কোন যন্ত্র। যদিও এই ফোনোগ্রাফ সাধারণ মানুষের দারে আসতে আরো ১০ বছরের মত সময় লেগেছিল কিন্তু এই যন্ত্রের মাধ্যমেই এডিসন সারা বিশ্বে খ্যাত হন।

ব্যবহারযোগ্য ইলেকট্রিক বাল্ব যেভাবে তৈরি হলোঃ

আমরা হয়তো অনেকেই জানি প্রথম ইলেকট্রিক বাল্ব টমাস আলভা এডিসনের আবিষ্কার করেছেন। কিন্তু এটা আসলে পুরোপুরি ভুল ধারণা। বহুকাল পুর্ব থেকে গ্যাস ও আগুনের বাতির বিকল্প নিয়ে গবেষণা চলছিলো। ১৮০০ সালে ইতালিয়ান বিজ্ঞানী আলেসান্দ্রো ভোল্টা এ বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছে।

এছাড়াও বৃটিশ বিজ্ঞানী হামপ্রে ড্যাভি, হেনরি উডওয়ার্ড এবং ম্যাথু ইভান্স পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বাতি তৈরী জালানোর। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা সফল হলেও পুরোপুরি সফল হয়নি। কারণ তারা সাধারণ মানুষের ব্যবহার যোগ্য এবং ব্যবসায়িক ভাবে বিক্রীর মতো করে বাতি তৈরি করতে পারে নি।

কথিত আছে যে টমাস আলভা এডিসনকেও সফল ভাবে এই বাতি বানাতে গিয়ে ১০ হাজার বার এর বেশি ব্যর্থ হতে হয়েছে। এই প্রসঙ্গে টমাস আলভা এডিসন যা বলেছিলেন তা হলো আমি ১০ হাজার বার ব্যর্থ হইনি আমি এটি কাজ না করার ১০ হাজারটি কারণ বের করেছি মাত্র।

ADs by Techtunes ADs

উডওয়ার্ড ও ইভান্স এর গবেষণার স্বত্ব বা কপিরাইট কিনে নেয় টমাস। তাদের প্রজেক্টের ওপর গবেষণা চালাতে থাকেন। ১৮৭৯ সালে তিনি আধুনিক লাইট বাল্বের সফল নকশা করতে সফল হন। অন্য সবার মতো টমাসের ও কাজটি করতে গিয়ে বার বার ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু অন্যরা ব্যর্থ হয়ে গবেষণা থামিয়ে দিয়েছে কিন্তু টমাস তা করেনি। তিনি গবেষণা চালিয়ে গিয়েছেন সফলতার আগ পর্যন্ত। সফল হবার পর তিনি আধুনিক লাইট বাল্বের পেটেন্টটি নিজ নামে করে নেয়।

১৮৮০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তিনি তার ইলেকট্রিক কোম্পানি তৈরি করার কাজ আরম্ভ করেন। তার ইচ্ছা ছিলো পৃথিবীর যতগুলো শহরে পারা যায় তিনি বিদ্যু‌ৎ ও আলো পৌছে দেবেন। সেই বছর তিনি এডিসন ইল্যুমিনেটিং কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে নেন। পরে এই কোম্পানিটিই জেনারেল ইলেকট্রিক কর্পোরেশন নামে পরিচিতি লাভ করে।

এখন পৃথিবীর সেরা ইলেকট্রিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে জেনারেল ইলেক্ট্রিক অন্যতম। আনুমানিক ১৮৮১ সালের দিকে টমাসের কোম্পানিগুলো বেশ কয়েকটি শহরে পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি করা শুরু করে। প্রায় এক বছর পরেই অর্থাৎ ১৮৮২ সালে টমাসের কোম্পানি ম্যানহাটন নামক জায়গায় ৫৯ টি বাড়িতে তাদের বিদ্যু‌ৎ ও আলোর সেবা দেয়।

টমাস আলভা এডিসনের অন্যান্য আবিষ্কারঃ

১৮৮৭ সালে আমেরিকার নিউ জার্সির ওয়েস্ট অরেঞ্জ নামক স্থানে টমাস বিরাট একটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ল্যাবরেটরি তৈরি করে। সেখানে তিনি বিদ্যু‌ৎ ও লাইট এর প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি মোশন পিকচার ক্যামেরার কার্যকর মডেল ও ফোনগ্রাফ তৈরী করে। এছাড়াও আধুনিক ব্যাটারীও তৈরী করেন তিনি যা অনেক বেশি সহজে অনেক বেশি বিদ্যু‌ৎ ধরে রাখতে পারে।

এর পরের কয়েক বছরে আবিষ্কারকের পাশাপাশি একজন দক্ষ ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট এবং বিজনেস ম্যানেজার হয়ে উঠতে থাকেন যা আমেরিকার অর্থনীতির আজকের পর্যায়ে আসার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় ছিলো। যদিও প্রথম দিকে টমাস কর্পোরেট পরিবেশে ঠিক নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলো না তবে দীর্ঘ সময় লাগলেও তিনি ব্যাপারটা শিখে নেন।

১৮৯৬ সালের ২৩ শে এপ্রিল নিউইয়র্ক শহরের কোস্টার অ্যান্ড বিয়াল এর মিউজিক হল এ ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এডিসন চলচ্চিত্র প্রদর্শন করানো হয়।

২০০০ সালের শুরুর দিকে যখন মোটর গাড়ির ব্যবহার শুরু হতে যাচ্ছিল তখন এডিসন ইলেকট্রিক কার নিয়ে গবেষণা আরম্ভ করে। তিনি এমন একটি ব্যাটারি তৈরি করতে চাচ্ছিলেন যাতে তা একটি গাড়িকে যথেষ্ঠ সময় চালানোর মত এনার্জি দিতে ও ধরে রাখতে পারে।

যদিও পরবর্তীকালে ইলেকট্রিক গাড়ির চেয়ে তেলে চলা গাড়িই প্রাধান্য পায়। এর একটি প্রধান কারণ হয়তো ইলেকট্রিসিটির দুর্লভতা। আজকে যত সহজে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে আগে তত সহজে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় নি। টমাস পরে তার বন্ধু ফোর্ড মোটরস এর প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ফোর্ড এর জন্য গাড়ির যন্ত্রাংশ বানিয়ে বানিয়ে দিতে শুরু করে।

ADs by Techtunes ADs

এডিসনের বানানো প্রযুক্তি দশকের পর দশক ধরে গাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে। আজকের জনপ্রিয় গাড়ির ব্র্যান্ড টেসলা মোটরস এর গাড়িগুলো টমাস আলভা এডিসনের ইলেকট্রিক কারের আইডিয়া থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি যার মালিক হচ্ছে ইলন মাস্ক।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে আমেরিকান সরকার তাকে ন্যাভাল কনসালটিং বোর্ড এর প্রধান হতে অনুরোধ করে। ফলে এই বোর্ডটির সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর অস্ত্র পরীক্ষা ও তার উন্নয়ন তিনি কাজ করতেন। দেশপ্রেমের জায়গা থেকেই হয়তো তিনি কাজটি করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু নীতিগত জায়গা থেকে হত্যা ও ধ্বংস যজ্ঞের বিরুদ্ধে থাকার কারণে মিসাইল ও ডেটেক্টর অস্ত্রের লোকেশন বের করার উপায় ইত্যাদি প্রজেক্টে কাজ করলেও কোন অস্ত্র বানানোর প্রজেক্টে তিনি কাজ করেননি বলে জানা যায়। তার সাথে সরকারের চুক্তির শর্ত ছিল। যা হলো তিনি শুধু ডিফেনসিভ ও টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতে কাজ করবেন এছারা অন্য কিছু নয়। পরে তিনি বলেছিলেন একটা কথা বলেছিলেন। আর তা হলো আমি ধন্য যে আমি কখনওই এমন কিছু আবিষ্কার করিনি যা দিয়ে রক্ত ঝরে।

টেসলা ও এডিসন এর মধ্যে সম্পর্কঃ

অবশ্য আরেক বিখ্যাত বিজ্ঞানী ছিলেন নিকোলা টেসলা। যার সাথে তার প্রতিদ্বন্দীতার ঘটনা বিজ্ঞানী মহলে আজো খুজলে পাওয়া যাবে। এডিসনের কোম্পানিতে এই ফ্রেঞ্চ বিজ্ঞানী অপ্লদিনের জন্য কাজ করতে এসেছিলো। দুইজনই অসামান্য প্রতিভাবান ছিলেন কিন্তু তাদের কাজের ধরন ছিলো সম্পুর্ণ আলাদা।

এডিসনের ব্যবসায়িক দৃষ্টি ভঙ্গীটাকে টেসলা কোন দিনই ভালো ভাবে মেনে নিতে পারে নি। এছাড়া বিদ্যুতের ব্যবহার কেমন হওয়া উচি‌ৎ এই বিষয়টা নিয়েও তাদের দুজনের মাঝে মতবিরোধ ছিল। ১৮৮৫ তাদের দুজনের মাঝের এ বিরোধ খবরের কাগজের শিরোনাম হয়ে উঠছিলো বলে শোনা যায়।

পরবর্তীতে টেসলা জর্জ ওয়েসটিংহাউজ এর সাথে পার্টনার হিসেবে যুক্ত হন। জর্জ আসলে ছিলেন এডিসনের অন্যতম সময়কালের অন্যতম ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দী। এতে তাদের বিরোধ চরমে পৌঁছাতে সময় লাগেনা। অনেকেরই দাবী করেন যে টেসলার অনেক আবিষ্কার টমাস আলভা এডিসন কৌশলে নিজের নামে করে নিয়েছেন। তারা এটাও বলে যে এডিসনের কারণেই টেসলা নিজে প্রতিভার পুরোপুরি বিকাশ ঘটাতে পারেননি। বর্তমান এ যুগেও বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানী ভক্তরা এডিসন ও টেসলা এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে তর্ক করে যাচ্ছে।

টমাস আলভ এডিসন এর পরিবারঃ

১৮৭১ সালে টমাস আলভা এডিসন বিয়ে করেন। তার স্ত্রীর নাম হলো মেরি স্টিলউয়েল। যখন তিনি বিয়ে করে তখন তার স্ত্রীর বয়স ছিলেন ১৬ বছর। মেরি তারই একটি কোম্পানীতে কর্মরত কর্মী মেরি ও এডিসনের তিনটি সন্তান ছিলো। টমাসের প্রথম সন্তান ছিলো মেয়ে ম্যারিওন যার ডাক নাম ছিল ডট। ম্যারিওন এর পরে জন্ম নেন টমাস আলভা এডিসন জুনিয়র যার ডাক নাম ছিল ড্যাশ। টমাস ও মেরি দম্পতির তৃতীয় সন্তান ছিলেন উইলিয়াম এডিসন। যিনি নিজেও একজন সফল বিজ্ঞানী এবং আবিষ্কারক।

ব্রেন টিউমারে এর কারণে ১৮৮৪ সালে মেঁরি মারা যান এবং টমাস আবার বিয়ে করেন এবং এই সময়কালটা ছিলো ১৮৮৬ সাল। তিনি তার চেয়ে ১৯ বছরের ছোট এক মেয়ে মিনা মিলারকে বিয়ে করেন।

দ্বিতীয় স্ত্রী অর্থাৎ মিনার গর্ভেও এক মেয়ে ও দুই ছেলে জন্মায়। কন্যার নাম ছিলো ম্যাডেলিন এডিসন এবং দুই পুত্রের নাম ছিলো থিওডোর ও চার্লস।

ADs by Techtunes ADs

মৃত্যুঃ

১৯২০ সালের শেষের দিকে টমাসের বয়স যখম ৮০ তখন বেশির ভাগ সময়ই তিনি কাটতেন ফ্লোরিডা নামক জায়গায়। সেই জায়গাতেই আধুনিক গাড়ির জনক হেনরি ফোর্ড এর সাথে তাঁর বন্ধুত্বের গভীরতা সৃষ্টি হয়। ওই বয়সেও তিনি একটি প্রযেক্ট নিয়ে কাজ করছিলেন যা ইলেকট্রিক ট্রেন এর সাথে জড়িত ছিলো।

৮৪ বছর বয়সী মহান বৈজ্ঞানিক টমাস ১৯৩১ সালের ১৮ ই অক্টোবর ওয়েস্ট অরেঞ্জ এর নিজ বাড়িতে মারা যান। তার মৃত্যুর কিছুক্ষন পর সারা বিশ্বের সব প্রান্তে কিছুক্ষণের জন্য ইলেকট্রিসিটি বন্ধ করে এই আলোর কারিগর টমাস আলভা এডিসনকে সম্মান জানায়। ভিত্তিহীন একটা গল্পে শোনা যা যে বন্ধু হেনরি ফোর্ড এবং টমাসের শেষ নিঃশ্বাস একটি বোতলে ভরে রাখা ছিলো।

শেষ কথাঃ

সমালোচকদের কাজই সমালোচনা করা। অনেক সমালোচকই বলে টমাস লোক ভালো ছিলো না। তিনি তার আবিষ্কারগুলো নিয়ে ব্যবসা করে গেছেন। আরে ভাই তিনি তার নিজের আবিষ্কার নিয়ে ব্যবসা করেছেন অন্যের কারো নয়। অন্যের কারোটা নিয়ে ব্যবসা করলে তাহলে খারাপ লোক ভাবা উচিত ছিল। আর সবচেয়ে বড় কথা তার ব্যবসার কারণেই হয়তো সারা পৃথিবীর মানুষ আধুনিক জীবনযাত্রা উপভোগ করতে পারছে। তিনি নিজের পরিবারকে কখনো অবহেলা করেন নি। সারা পৃথিবী আলোকিত আজ তার হাতের ছোঁয়ায়। আজকের এই আধুনিক যুগের ভিত্তি যে কয়েকটি বিখ্যাত সফল মানুষের হাতে তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন তিনি।

নিঃসন্দেহে আপনারা আমাকে টিউমেন্টে টিউমেন্ট করে জানাতে পারেন যে টমাস আলভা এডিসন এর জীবনী কেমন লাগলো। আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা টপিক বাদ পড়লে আমাকে জানাবেন যাতে করে আমি তা আমার এই টিউনে অ্যাড করতে পারি। সন্দেহে আপনার প্রতিটি মতামত আমার কাছে অমূল্য। ভালো লাগলে জোসস আমার প্রাপ্য। এ পর্যন্ত আমার টিউনটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এরকম চমৎকার টিউন করতে চাইলে আমার সাথে থাকুন। আজকের মতো আপনাদের মাঝ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আসসালামু আলাইকুম।

ADs by Techtunes ADs
Level 4

আমি মোঃ তানজিন প্রধান। ২য় বর্ষ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 2 মাস 3 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 42 টি টিউন ও 38 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 6 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 4 টিউনারকে ফলো করি।

কখনো কখনো হারিয়ে যাই চিন্তার আসরে, কখনোবা ভালোবাসি শিখতে, কখনোবা ভালোবাসি শিখাতে, হয়তো চিন্তাগুলো একদিন হারিয়ে যাবে ব্যাস্ততার ভীরে। তারপর ব্যাস্ততার ঘোর নিয়েই একদিন চলে যাব কবরে।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস