ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

মেগা টিউনঃ আপওয়ার্ক কেন গণহারে বাংলাদেশীদের একাউন্ট সাসপেন্ড করছে?

upwork-logo

ADs by Techtunes ADs

আসসালামুয়ালাইকুম, প্রিয় ভাই ও বোনেরা যারা এই লিখাটি পড়ছেন আপনাদের সবাইকে টেকটিউনসের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি ইমতিয়াজ ইবনে আলম। গত কিছুদিন ধরে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে আমি অনেক ভাইদের অভিযোগ দেখছি যে তাদের আপওয়ার্ক একাউন্ট কোন কারণ ছাড়াই সাসপেন্ড হয়ে গেছে। সবারই মুটামুটি একি কাহিনী যে তারা কিছুই করেন নি! কিন্তু, আসলেই কি তাই?

upwork account suspended email

আমার আজকের এই টিউনে আমি আলোচনা করবো আপনি কি করেছেন যার কারণে হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই আপওয়ার্ক আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড করলো, কেন এটা হচ্ছে, আর এই সমস্যার সমাধান কি।

কেন আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড হল?

আপওয়ার্কে একাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার বেশ কিছু কারণ আছে, তবে বেশীরভাগ বাংলাদেশীদের একাউন্ট পুরোপুরি কাজে অযোগ্যতার কারণে হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হল আপওয়ার্ক কিভাবে বুঝে আপনি মার্কেটপ্লেসে কাজ করার অযোগ্য? উত্তরগুলো জানতে নীচের পয়েন্টগুলো দেখুনঃ

      ১। কাজ না পাওয়া। মাসের পর মাস ধরে প্রচুর কাজে প্রোপজাল পাঠানো, কিন্তু কোন কাজ না পাওয়া।
      ২। কপি-পেস্ট প্রোপজাল। ক্লায়েন্ট কি চায় সেটা না বুঝেই প্রত্যেক কাজে একি প্রোপজাল কপি-পেস্ট করে পাঠানো।
      ৩। আন-কোয়ালিফাইড জবে প্রোপজাল পাঠানো। “Preferred Qualification” এই জায়গাই সবগুলোতে আন-কোয়ালিফাইড হওয়া সত্ত্বেও, সেই সব কাজে বারবার প্রোপজাল পাঠানো। এছাড়াও ৩ বা ৪ জন ক্লায়েন্ট যদি আপনার প্রোপজালে “Flag as inappropriate” দিয়ে থাকে সেক্ষেত্রেও আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড করা হতে পারে।
    preferred qualification
      ৪। আনস্কীলড জবে প্রোপজাল পাঠানো। যে কাজে আপনার প্রোফাইলে কোন স্কীল নাই, সেই সব কাজে বারবার প্রোপজাল পাঠানো। এর সহজ মানে হল আপনি আপনার প্রোফাইলে স্কীল দিয়ে রেখেছেন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে, কিন্তু কাজ না পেয়ে আপনি ঘুরেফিরে ডাটা এন্ট্রি, এসইও, মার্কেটিং বা রাইটিং এর জবে প্রোপজাল পাঠাচ্ছেন। আপওয়ার্ক এক্ষেত্রে ধরে নেয় আপনি আসলে কিছুই পারেন না।
      ৫। দুর্বল আপওয়ার্ক প্রোফাইল। এর মধ্যে অন্যতমগুলো হল প্রোফাইলে কোন পোর্টফোলিও না থাকা, অন্যের ওভারভিউ কপি-পেস্ট করে মারা, একগাদা স্কীল সেট করে রাখা, এবং কোন স্কীল টেস্টে পাস না করা।
      ৬। টানা কম রেটের কাজ করা। আপনি আপওয়ার্কে কাজ করছেন প্রায় ১ বা ২ বছর ধরে এবং প্রায় ১৫-২০টা কাজ করে ফেলেছেন, কিন্তু তেমন উল্লেখযোগ্য কোন কাজ পান নি আর আপনার পুরো প্রোফাইল জুড়ে শুধুই ১, ২, ৫, বা ১০ ডলারের কাজ। এক্ষেত্রে আপওয়ার্ক আপানাকে খুবই দুর্বল স্কীলের ফ্রিলান্সার হিসেবে ধরে নেবে এবং রেড মার্কিং করে রাখবে। আর যদি দুই বা তিনটা যে বড় প্রজেক্টগুলো (মানে নিম্নতম ৫০ বা ১০০ ডলারের কাজ) করেছেন সেগুলোতে বাজে রেটিং পেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড করা হতে পারে।
      ৭। খুবই কম জব সাকসেস স্কোর। আপনি আপওয়ার্কে কাজ করছেন প্রায় ১ বা ২ বছর ধরে এবং প্রায় ১৫-২০টা কাজ করে ফেলেছেন, কিন্তু আপানার জব সাকসেস স্কোর ৬০% এর নীচে আর বেশীরভাগ কাজেই বাজে ফিডব্যাক রেটিং, সেক্ষেত্রে আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড হতে পারে।

অযোগ্যতা ব্যাতিত যেসব কারণে আপওয়ার্কে একাউন্ট সাসপেন্ড হয়ঃ

      ১। ভুয়া একাউন্ট। আইডি ভেরিফিকেশন না করে, অন্যের নাম দিয়ে ও অন্য লোকের ছবি দিয়ে একাউন্ট খোলা এবং সেই সব একাউন্ট থেকে বিভিন্ন কাজে প্রোপজাল পাঠানো। বাংলাদেশে বসে ইউএস, কানাডা, বা ইউরোপীয় কোন দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে একাউন্ট খোলা। এছাড়াও একই পিসি বা ল্যাপটপ থেকে ঘন ঘন ভুয়া ও আসল দুই একাউন্টেই বারবার লগ-ইন করা।
      ২। ক্লায়েন্টকে আপওয়ার্কের বাইরে কাজ করার অফার দেয়া। আর এটা করে যদি ধরা খান, সেক্ষেত্রে আপনার একাউন্ট আজীবনের জন্য সাসপেন্ড করা হবে।
      ৩। নিম্নমানের কাজ। কনট্রাক্ট নিয়ে ভাল কাজ ডেলিভারী দেয়ার প্রতিশ্রুতি করে, অন্যের কোন লিখা, ডিজাইন, বা কোড কপি-পেস্ট করে সাবমিট করা, খুবই নিম্নমানের কাজ সাবমিট করা অথবা কোন কাজই সাবমিট না করা।
      ৪। বাজে ব্যবহার। ক্লায়েন্টের সাথে মেসেজে বাজে ব্যবহার বা অসদাচরণ করা।
      ৫। ফিডব্যাক। বাজে রেটিং পেয়ে ক্লায়েন্টকে বারবার ফিডব্যাক রেটিং চেন্জ করার অনুরোধ করা।

    উপরের পয়েন্টগুলো ভালোমতো দেখুন! আমার মনে হয় আপনি এতক্ষণে উত্তর পেয়ে গেছেন আসলে কি কারণে আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড হয়েছে।

    Note: দয়া করে এই টিউনটি কপি-পেস্ট করে নিজের নামে চালাবেন না! এটাকে সহজ ভাষাই চুরি বলা হয়। যদি আপনি এই টিউনটি আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করতে চান, তবে উপরের/নীচের শেয়ার বাটনে ক্লিক করে ফেসবুক বা অন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

    কেন আপওয়ার্ক অনেক বেশি পরিমাণে একাউন্ট সাসপেন্ড করছে?

    এখন প্রশ্ন হল কেন আপওয়ার্ক এত বছর পর অনেকটা হঠাৎ করে এই জাতীয় কঠোর পদক্ষেপ নিলো? আর বাংলাদেশীদের সাথে কি আপওয়ার্কের কোন বিশেষ শত্রুতা আছে? কারণ জানতে নীচের পয়েন্টগুলো দেখুনঃ

      ১। অযোগ্য ও অদক্ষ ফ্রিলান্সার কমানো। আপনাদের মধ্যে হয়তো অনেকেই জানেন যে আপওয়ার্কে এখন মিনিমাম আওয়ারলি রেট ১ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩ ডলার করা হয়েছে। এখন আপনি যদি ঘন্টাই ৩ ডলার পাওয়ার যোগ্য না হন, তাহলে আপনার একাউন্ট রেখে দিয়ে শুধু শুধু স্পামার বাড়ানোর কি ওদের আদৌ দরকার আছে? আমার মনে হয় উত্তরটা আপনি জানেন!
      ২। স্পামারদের সংখ্যা কমানো। আপওয়ার্কে ইদানীং একটা নতুন জব ওপেন হলে, প্রথম এক ঘন্টায় কিছু না হলেও প্রায় ৫০-১০০ প্রোপজাল জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩০-৫০% প্রোপজাল থাকে স্পামারদের! আর দুঃখের বিষয় হচ্ছে বিভিন্ন ফ্রিলান্স মার্কেটপ্লেসে এই স্পামারদের একটা বড় অংশই বাংলাদেশী। এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন স্পামার বলতে আমি কাদের বোঝাচ্ছি? স্পামারের সংজ্ঞাটা বেশ বড় তাই এক কথায় বলছি স্পামার হচ্ছে তারা যারা কোন জব স্কীল না থাকা সত্ত্বেও একটার পর একটা প্রোপজাল পাঠায়।
      ৩। ক্লায়েন্ট অসন্তোস। ক্লায়েন্টদের মধ্যে বাংলাদেশী ফ্রিলান্সারদের এবং তাদের কাজের প্রতি ব্যাপক অসন্তোস, ক্ষোভ ও অনীহা। আমাদের দেশের সরকার ও ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা কোচিং সেন্টারগুলো যতই ঘোষণা দিয়ে বেড়াক ৫-৬ লক্ষ লোক ফ্রিলান্সিং করে আয় করছে, বাস্তবতা হল ফ্রিলান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করার উপযুক্ত ফ্রিলান্সারদের সংখ্যা সবমিলিয়ে ১৫-২০ হাজার হবে কিনা সন্দেহ! বাকিরা কিছু স্পামিং জাতীয় কাজ ছাড়া আসলে কিছুই পারে না। এর ফলাফল হল লো-কোয়ালিটির সার্ভিস পেয়ে ক্লায়েন্টদের মধ্যে বাংলাদেশীদের প্রতি ব্যাপক অসন্তোস, ক্ষোভ ও অনীহা।
      ৪। আপওয়ার্কের নিজস্ব লাভের অংশ বাড়ানো। আপনাদের বুঝতে হবে আপওয়ার্ক একটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। আর ওদের ইনকামের জায়গা হল আপনি যে কাজ করছেন সেই কাজ থেকে প্রাপ্ত কমিশন। বাংলাদেশী, পাকিস্তানী ও ফিলিপাইনিদের মধ্যে একটা বড় অংশ খুবই কম রেটে কাজ করে, যেটা আপওয়ার্কের জন্য ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিকর। একটা ছোট উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছিঃ

ধরুন একটা ছোট কাজে ক্লায়েন্টের বাজেট ৫০ ডলার। সেই কাজে ইউএস বা ইউরোপীয় ফ্রিলান্সারদের এভারেজ বিড রেট হল প্রায় ৪৫-৫৫ ডলার। কিন্তু আপনি মাত্র ১০ ডলারে বিড করে কাজটা নিলেন। যদিও আপনি কাজটা ঠিকঠাক মত শেষ করলেন, কিন্তু এটা আসলে আপওয়ার্কের জন্য একটা লস প্রজেক্ট কারণ ওই ক্লায়েন্ট ৫০ ডলার খরচ করার জন্য রেডি ছিল। ব্যাপারটা আরোও পরিষ্কার করে দিচ্ছি! আপনি ১০ ডলারে কাজ শেষ করায় ২০% ফি হিসেবে আপওয়ার্ক কমিশন পেল মাত্র ২ ডলার, কিন্তু কাজটা যদি একজন ইউএস বা ইউরোপীয় ফ্রিলান্সার ৪০ ডলারে করতো তবে আপওয়ার্ক কমিশন পেত ৮ ডলার। এখন বুঝতে পারছেন সমস্যাটা কোথায়।

এই সমস্যার সমাধান

আপনার আপওয়ার্ক একাউন্ট যদি উপরে উল্লেখিত কাজে অযোগ্যতার যে কোন একটির কারণে সাসপেন্ড হয়, তবে আমার পরামর্শ হবে ওদের কাস্টমার সাপোর্টে ভুলেও এখনি যোগাযোগ করবেন না। দয়া করে নীচের পরামর্শগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুনঃ

      ১। কাজ শিখুন। আপওয়ার্ক আপনার বাড়ির সামনের খেলার জায়গা না, এটা একটা গ্লোবাল মার্কেটপ্লেস শুধুমাত্র প্রফেশনালদের জন্য। প্রফেশনাল মানে কি জিনিসটা প্রথমে বুঝুন।
      ২। স্কীল ডেভেলপ করুন। ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা কোচিং সেন্টারগুলোর ৩ মাসে বড়লোক প্রলোভনে না পা দিয়ে, একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে স্কীল ডেভেলপ করুন। ইন্টারনেটে প্রচুর ফ্রি টিউটোরিয়াল আছে সেগুলো নিজে নিজে প্র্যাকটিস করুন। একটা বিষয় মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে নেন যে এই ফিল্ডে সফল হতে গেলে আপনাকে সাধনা করতে হবে। আর বাস্তবতা হল আপনার স্কীলকে প্রফেশনাল পর্যায়ে নিয়ে যেতে আপনার কম করে হলেও দুই বছর সময় লাগবে!
      ৩। ছাড় দিতে শিখুন। কাজ ভালোভাবে শিখার জন্য দরকার হলে, যারা ফ্রিলান্সিং-এ ৪-৫ বছর ধরে সফলতার সাথে কাজ করছে তাদের আন্ডারে ৬ মাস বা ১ বছর ধরে কাজ করুন। তারা যদি এক টাকাও না দেয় সেটা নিয়ে মাথা নষ্ট না করে চুপচাপ কাজ শিখুন। কাজ ভালভাবে শিখতে পারলে আপনি অনেক কামাতে পারবেন, তাই টাকা নিয়ে এখন শুধু শুধু মাথা নষ্ট না করে কাজ শিখুন।
      ৪। ইংরেজী ভাষাটা ভালোভাবে রপ্ত করুন। ফ্রি-হ্যান্ড ইংরেজীতে লিখার অভ্যাস করুন, কিভাবে একটা প্রোপজাল গুছিয়ে ভালভাবে লিখতে হয় সেটা শিখুন, ক্লায়েন্টদের সাথে কিভাবে প্রফেশনালি কমিউনিকেশন করতে হয় সেটা নিয়ে পড়াশুনা করুন।

আর আপনি যদি ১-২ বছর ধরে আপওয়ার্কে কাজ করার পরও সাসপেন্ড হয়ে থাকেন, তবে সবার প্রথমে ওদের কাস্টমার সাপোর্টে খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে একটা ফর্মাল লেটার লিখুন। আপনি যদি ইংরেজীতে দুর্বল হন, তাহলে আপনার পরিচিতদের মধ্যে যদি কেউ ইংরেজীতে ভাল থাকে তার সাহায্য নিন। কোন প্রকার ঝগড়া বা বাজে মনোভাব না নিয়ে লজিক্যালি আপনার যুক্তিগুলো তুলে ধরে ওদের কাছে রিকোয়েস্ট করুন আপনার সাসপেনশন তুলে নেয়ার জন্য।

এই বিষয়ে আরোও পরামর্শের জন্য আপনি যোগ দিতে পারেন আমার ফেসবুক গ্রুপ ফ্রিল্যান্সার'স হাবে অথবা আমার YouTube চ্যানেলে

ADs by Techtunes ADs

ADs by Techtunes ADs
Level 0

আমি ইমতিয়াজ ইবনে আলম। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 3 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 4 টি টিউন ও 8 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

A freelance medical writer with a knack for making complex medical or scientific literature understandable. Enjoys writing medical contents of different types, including regulatory and research-related contents, disease or drug-related literature, publication articles like journal manuscripts and abstracts, and content for websites, health-related magazines or newspapers.


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

তথ্যবহুল পোষ্ট, অনেক সুন্দর ও সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

একাউন্ট সাসপেন্ড হলে ফিরে পাবার উপায় কি? পুরান একাউন্ট ডিজেবল করা যায় না। এখন নতুন একাউন্ট কি খোলা যাবে?

    আমার মতে নতুন একাউন্ট না খোলাটাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ নতুন একাউন্ট থেকে কাজ পাওয়া আরোও টাফ হবে। কাজ পেলেও ক্লায়েন্ট খারাপ হবার সম্ভাবনা থাকবে বেশী। আপওয়ার্কে অনেক বেশী পরিমাণে বাজে ক্লায়েন্ট আছে যারা নতুন ও দুর্বল ফ্রিলান্সারদের টার্গেট করে। এরা আপনাকে খুবই সুন্দর ভাষায় কথা বলে কাজ দেবে, তারপর কাজ দেবার পর থেকে নানারকম সমস্যা তৈরি করা শুরু করবে, কথায় কথায় আপনার নামে কমপ্লেইন করার হুমকি দেবে, কাজ ফ্রি তে করে নেয়ার চেষ্টা করবে আর না করলে বাজে ফিডব্যাক দেয়ার হুমকি দেবে। আর আপনি যদি ওই ক্লায়েন্টের কথা মত কাজ না করেন, তবে বাজে ফিডব্যাক ও কমপ্লেইন দুটোই করবে। এর থেকেও বড় সমস্যা হল অতিরিক্ত স্পামিং আর লো-কোয়ালিটি সার্ভিস পাওয়ার কারণে ভালো ক্লায়েন্টরা সাধারণত নতুন ফ্রিলান্সারদের হায়ার করতে চায় না। এই সব ক্লায়েন্টদের ইমপ্রেস করার একমাত্র উপায় হল অসাধারণ পোর্টফোলিও, আর সেটা যদি আপনার এখন না থাকে তবে নতুন একাউন্ট না খোলাটাই শ্রেয়।

    আর আপনার যদি আগের রেটিং ভালো থাকে, মানে সাসপেন্ড হওয়ার আগে, তবে সরাসরি কাস্টমার সাপোর্টে যোগাযোগ করুন। এখন সাসপেনশন না তুলে নিলে ৩-৪ মাস অপেক্ষা করুন, তারপর আবার কাস্টমার সাপোর্টে যোগাযোগ করুন বেশকিছু ভালো পোর্টফোলিওসহ। আর সবশেষে আমার পরামর্শ হবে যদি ফ্রিলান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান তবে একটা মার্কেটপ্লেসের উপর নির্ভরশীল না হয়ে অনলাইনে নিজের একটা শক্তিশালী রেপুটেশন তৈরি করুন। অন্য আরোও দশটা মার্কেটপ্লেসে চেষ্টা করুন, বিভিন্ন পোর্টফোলিও সাইটে নিজের স্যাম্পল আপলোড করুন, নিজস্ব একটা ক্লায়েন্ট বেজ তৈরি করার চেষ্টা করুন।

চমৎকার একটি পোস্ট। অনেক ভাল লাগল।

আমাদের দেশের সরকার ও ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠা কোচিং সেন্টারগুলো যতই ঘোষণা দিয়ে বেড়াক ৫-৬ লক্ষ লোক ফ্রিলান্সিং করে আয় করছে, বাস্তবতা হল ফ্রিলান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করার উপযুক্ত ফ্রিলান্সারদের সংখ্যা সবমিলিয়ে ১৫-২০ হাজার হবে কিনা সন্দেহ!

ভাই এই ব্যাপারে আমি আপনার সাথে একমত।