ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

করোনা ভাইরাসের আক্রমনে যেভাবে ইসলামের বিজয় হয়েছে!

টিউন বিভাগ অন্যান্য
প্রকাশিত
জোসস করেছেন

করোনা ভাইরাস আক্রমনে ইসলামের একটি বিজয় হয়েছে আর সেই বিজয় মানে এটা নয় যে, জগতে এর ফলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে এবং মানুষ দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করবে। করোনা আক্রমনে আসলে ইসলামের মহানত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের বিজয় হয়েছে। করোনাকে কেন্দ্র করে দুনিয়াব্যাপী কতিপয় ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেসন করলে সেই বিষয়টি অনেকটাই উপলদ্ধি করা যায়। চৌদ্দশত বছর পরে এসে কিছু ঘটনা প্রবাহের আলোকে ইসলাম ধর্মের মহানত্বের বিষয়টি কিছুটাও যদি ফুটে উঠে তাহলে বলতে দ্বিধা নেই যে, ইসলাম একটি বিশ্বজনীন জীবন দর্শন ইহা কেহ বিশ্বাস করুক বা না করুক। ইসলামের প্রতি যাদের বিশ্বাস নেই তাদের দৃষ্টি আমার আর্টিক্যালটি এড়িয়ে যেতে পারবে না এটাও সত্য যদিও চলমান সমাজ দর্শনের আলোকে বলতে গেলে ধর্ম বিশ্বাস একটি ব্যক্তিগত ব্যপার, তাই যারা ইসলামকে মেনে নিতে আগ্রহী নয় তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করা কিংবা তাদের প্রতি আগ্রাসীমুলক মনোভাব পোষণ করা যেমন একটি অনৈতিক কাজ, সেই সঙ্গে যারা ইসলাম বা ধর্মে অবিশ্বাসী তাদেরকেও ধর্ম বিশ্বাসীদের বিশ্বাস নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অনেক সংযত হতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন নৈতিক সীমা লংঘন না হয় কারণ ধর্ম বিশ্বাস একটি মৌলিক অধিকার। ধর্মের বিরোধিতা করতে গিয়ে এমন কোন সীমা লংঘন করা যাবে না যাতে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ভ্রাতৃত্ব বিনষ্ট হয়। আর কথা না বাড়িয়ে চলুন তাহলে দেখা যাক করোনা ভাইরাস আক্রমনের ফলে ইসলামের মহানত্ব বা শ্রেষ্ঠত্বের বিজয়টা আসলে কিভাবে হয়েছে।

ADs by Techtunes ADs

১। শুনেছি চীনের মুসলিমদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের আক্রমনের মাত্রা অনেকটাই কম সেজন্য নাকি সেখানের মুসলিমদের জীবন যাপন প্রদ্ধতি জানার আগ্রহ বেড়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট নাকি মসজিদে গিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছে। এই খবর যদি শতভাগ সঠিক না হয়ে কিছুটাও সঠিক হয় তাহলে সেটা কম কিসের। মিডিয়া থেকে খবরটি সংগ্রহ করেছি। ভুল হয়ে থাকলে প্রমান সহ টিউমেন্ট করলে উক্ত আর্টিক্যাল থেকে এই অংশ মুছে দিব।

২। স্পেনে মুসলিম শাসনের পর উচ্চস্বরে আজান দেয়ার ইতিহাস নেই। করোনা ভাইরাস আক্রমনে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা নিবেদনের জন্য একটি মুসলিম সংগঠনের অনুরোধে বাসা বাড়িতে স্পেন সরকার উচ্চস্বরে আযান দেয়ার অনুমতি প্রদান করেছে।

৩। সমগ্র দুনিয়ার ইসলামী চিন্তাবিদগণ ভাইরাস প্রতিরোধে ইসলামে কোন দিক নির্দেশনা আছে কিনা সে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে কুরআন হাদীস রিসার্চ শুরু করেছে।

৪। রোগ প্রতিরোধে পবিত্র কুরআন ও হাদীসে যে সমস্ত প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক ইংগিত রয়েছে সেগুলোর উপর সতন্ত্রভাবে ইসলামী সাহিত্য রচনার কাজ শুরু হয়েছে।

৫। রোগ প্রতিরোধে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের প্রাকৃতিক-আধ্যাত্মিক ইংগিত সমুহ প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং ইন্টারনেট বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচারণা শুরু হয়েছে।

৬। সমগ্র দুনিয়ার অমুসলিমরাও এই সমস্ত লেকচার সমুহ শ্রবন করছে ফলে অমুসলিমগণ ইসলাম সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারছে।

৭। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা ইসলামের মৌলিক নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত এবং ইহা মুসলিম সভ্যতা সংস্কৃতির একটি রীতি। আমরা যদি চৌদ্দশত বছর পূর্বের দুনিয়ায় ফিরে যাই তাহলে আমরা শেষনবী ব্যতিত এমন কোন ধর্মীয় নেতা বা গুরু দেখতে পাইনা যিনি তার অনুসারীদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বনের মত এমন একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশরূপে পরিগণিত করার প্রয়াস চালিয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র দুনিয়াবাসীর নিকট ইসলামের এই মৌলিক নির্দেশ একটি সার্বজনীন বিষয়রূপে পরিগণিত। করোনা ভাইরাস আক্রমনে দুনিয়াব্যাপী পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বনের নির্দেশ এখন আর ব্যক্তিগত ব্যপার নয় শুধু, রাষ্টিয় নির্দেশে পরিনত হয়েছে। সুতরাং আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি এক্ষেত্রে মহানবীর উপদেশ পালনে রয়েছে দুনিয়াবাসীর অনেক কল্যান। এখন প্রশ্ন হল সাবান দিয়ে হাত ধৌত করার নির্দেশ কেন ইসলামে নেই? দেখুন সব সময় কিন্তু মানবজাতীকে ভাইরাস আক্রমন করে না। তবে ব্যাকটেরিয়া কিন্তু সব সময় বিরাজমান থাকে, তাই অজুতে যদি ভাইরাস প্রতিরোধ নাও হয় তবে ব্যাকটেরিয়া যে প্রতিরোধ হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। ইহাই ইসলামের একটি সৌন্দর্য। চিকিৎসা বিজ্ঞান ইসলামের সঙ্গে এই বিষয়ে দ্বিমত করেনি। ইসলামের প্রাথমিক যুগে সাবানের প্রচলন না থাকায় কুকুর কোন পাত্রে মুখ দিলে নবীজী সাঃ সেই পাত্র মাটি দিয়ে একাধিকবার ধৌত করার নির্দেশ দিতেন কারণ কুকুরের লালায় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থাকে। ভালভাবে লক্ষ্য করুন নবীজী সাঃ কিন্তু এখানে পানি যথেষ্ট মনে করেননি সুতরাং ইহাও নবীজীর পরোক্ষ ইংগিত যে, ভাইরাস প্রতিরোধে শুধু পানি যথেষ্ট নয়। একজন ব্লগার টিউমেন্ট করেছেন মধ্য যুগে মুসলিম বিজ্ঞানীদের মাধ্যমেই সাবানের প্রচলন হয়েছিল। এই তথ্য মোতাবেক সাবান প্রচলনের অবদান ইসলাম ও মুসলিম জাতীর প্রাপ্ত। একটি আর্টিক্যালে এই প্রশ্নের প্রায় বিশটি উত্তর দেওয়া হয়েছে আমার মেইন লিংকে প্রয়োজনে দেখে নিবেন। আর ইসলাম কেন মানুষের জন্য সব সময় সাবান দিয়ে হাত ধৌত করার বিষয়টি অপরিহার্য করেনি এ বিষয়ে একটি আর্টিক্যালে আমি বিশটি যুক্তি দেখিয়েছি প্রয়োজনে আমার মূল পাতায় গিয়ে আর্টিক্যালটি দেখে নিবেন। কেউ ভাববেন না যে, আমি যুক্তি দিয়ে ইসলামের বিধানকে জোরালো করতে এসেছি, আমি যুক্তিবাদী নই তবে যেখানে প্রয়োজন সেখানে যুক্তি আবশ্যক। কুরআন হাদীস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পূর্বে অনেক মুফাসসির এবং মুসলিম দার্শনিক যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল প্রমান উপস্থাপন করেছেন। ইমাম গাজ্জালী রাহ. ইমাম রাজী রাহ. তাদের মধ্যে অন্যতম। ইমাম রাজীর তাফসীরে কাবীর এবং ইমাম গাজ্জালীর সৌভাগ্যের পরশমনি অধ্যয়ন করলেই বিষয়গুলো জানতে পারবেন। এই দুইটি পুস্তক ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

৮। করোনা থেকে বাচতে সমগ্র দুনিয়ায় হাত ধৌত করার চর্চা অব্যাহত। আর ইসলামের অজুর বিধানে প্রথমেই হাত ধৌত করতে হয়! পাচ ওয়াক্ত সালাতে পাচবার হাত ধৌত করতে হয়। তাহাজ্জুদ, আউয়াবিন, চাশত, ইশরাক ধরলে নয়বার ধৌত করতে হবে। ভাইরাসের আক্রমন না হলেও ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মুসলিমগণ অজুর মাধ্যমে হাত ধৌত করে থাকে। আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে হাতে ব্যাকটেরিয়াও থাকে ফলে খাবারের পূর্বে হাত ধৌত করা চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে আবশ্যক অন্যথায় হাতের ব্যাকটেরিয়া পেটে গিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইসলাম খাবারের পূর্বে হাত ধৌত করার নির্দেশ চৌদ্দশত বছর পূর্বে দিয়েছে আর চিকিৎসা বিজ্ঞান সেই নির্দেশ দিয়েছে ইসলামের বহু পর। লক্ষ্য করুন এখানেও ইসলামের বিজয়।

৯। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া যেহেতু মুখ দিয়ে প্রবেশ করতে পারে এবং ঠোটেও লেগে থাকে তাই ইসলামের বিধানে অজুতে তিনবার কুলি করতে হয়! পাচ ওয়াক্ত সালাতে পনেরবার কুলি করতে হয়। তাহাজ্জুদ, আউয়াবিন, চাশত, ইশরাক প্রসঙ্গ আসলে নয়বার অজুতে মোট সাতাইশবার কুলি করতে হবে। আর মুখের ভিতরের অংশ যেমন সাবান দিয়ে ধৌত করা সম্ভব নয়, ইহা নিরাপদ নয়। কুলি করাটাই সবচেয়ে বেশী নিরাপদ। যদি কুলি করার মাধ্যমে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া কিছুটাও রোধ করা যায় সেটা মন্দ নয়। মনে রাখতে হবে দাত পরিস্কার করার নির্দেশও আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে ইসলাম দিয়েছে। বিজ্ঞান এই নির্দেশকে মেনে নেয়নি শুধু একে অপরিহার্য বলেছে সেই হিসাবে মানবজাতী ইসলামের কাছে দ্বায়বদ্ধ।

ADs by Techtunes ADs

১০। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নাক দিয়েও প্রবেশ করতে পারে তাই ইসলামের বিধানে অজুতে তিনবার নাক পরিস্কার করতে হয়! পাচ ওয়াক্ত সালাতে পনেরবার নাক পরিস্কার করতে হয়। তাহাজ্জুদ, আউয়াবিন, চাশত, ইশরাক প্রসঙ্গ আসলে নয়বার অজুতে মোট সাতাইশবার নাক পরিস্কার করতে হবে। তাছাড়া রাস্তা ঘাটে চলতে ফিরতে নাকে পর্যাপ্ত পরিমান ধুলিবালি প্রবেশ করে থাকে। নাকে পানি দিলে এই সমস্ত ধুলিবালি চলে যায়। উল্লেখ্য যে, নাক পরিস্কার করার নির্দেশ কিন্তু ইসলাম দিয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞান নয়। আর যদি বিজ্ঞান দিয়েও থাকে তাহলে ইসলামের অনেক পরে। আর নাকের ভিতরের অংশ যেমন সাবান দিয়ে ধৌত করা সম্ভব নয় ইহা নিরাপদও নয়। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য।

১১। ইসলামের বিধানে অজুতে তিনবার সমগ্র মুখ মন্ডল ধৌত করতে হয়! চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া চোখে লাগাটা বিপদজনক, পাচ ওয়াক্ত সালাতে পনেরবার মুখ মন্ডল ধৌত করতে হয়। তাহাজ্জুদ, আউয়াবিন, চাশত, ইশরাক প্রসঙ্গ আসলে নয়বার অজুতে মোট সাতাইশবার মুখ মন্ডল ধৈাত করতে হবে। প্রত্যেহ সাতাইশবার মুখ মন্ডল ধৌত করলে চোখ এমনিতেই পরিস্কার থাকবে। আর চোখ যেমন সাবান দিয়ে ধৌত করা সম্ভব নয় ইহা নিরাপদও নয়। দেখুন ইসলামের সৌন্দর্য।

১২। চুলে যেহেতু চুম্বকীয় আবেশ থাকে তাই রাস্তায় বের হয়ে প্রায় ধুলিবালি চুলে এসে ভীর জমায়। আর মানুষের হাত যেহেতু প্রায়ই মাথায় যায় সেটা চুল ঠিক করার জন্য হউক বা অন্য যে কারনে হউক মানুষ মাথায় হাত স্পর্ষ করেই থাকে। আর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া মাথায় লেগে থাকতে পারে এটাও অসম্ভব নয় সেজন্য ইসলামে মাথা মাসেহ করার বিধান রয়েছে। মাথা মাসেহ করলে উপরিভাগের প্রায় সব ধুলিবালি চলে যায়। পাচ ওয়াক্ত সালাতে অজুতে পাচবার মাথা মাসেহ করতে হয়। তাহাজ্জুদ, আউয়াবিন, চাশত, ইশরাক প্রসঙ্গ আসলে নয়বার অজুতে মোট নয়বার মাথা মাসেহ করতে হবে।

১২। মানুষের যখন পা চুলকায় তখন সঙ্গত কারনেই জুতা খুলে পা একটু হাত দিয়ে স্পর্ষ করার অভ্যাস রয়েছে। ঝামেলার জুতাগুলো পরতে গেলে পায়ে হাত লাগে। মুজা খুলতে গেলে, পরতে গেলে হাত পায়ে লেগে থাকে। বিছানায় গেলে পায়ে লেগে থাকা ময়লা চাদরে লাগে। সেই জায়গায় হাত লেগে থাকে। টয়লেটে গেলে পায়ে ময়লা লাগতে পারে। অফিসে জুতা খুলে অসংখ্য মানুষ ডিউটি করে। বাড়িতে প্রায় দুনিয়ার সকল মানুষের পা থাকে আবরনমুক্ত তাই পায়ে ময়লা এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া লাগতেই পারে সেজন্য অজুতে পা ধৌত করার বিধান রয়েছে। পাচ ওয়াক্ত সালাতে অজুর প্রারম্ভে পাচবার পা ধৌত করতে হয়। তাহাজ্জুদ, আউয়াবিন, চাশত, ইশরাক প্রসঙ্গ আসলে নয়বার অজুতে মোট নয়বার পা ধৌত করতে করতে হবে।

১৩। ইসলামের একটি বিধান হল পরিস্কার কাপড় চোপড় পরিধান করা কারণ কাপড়ে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া লেগে থাকার বিষয়টি অসম্ভব নয়। ইসলামে ময়লা বা নোংরা কাপড় পরিধানের বিষয়টি পছন্দনীয় নয় তাই ইসলাম কাপড় রিতিমত ধৌত করার শিক্ষা দেয়।

১৪। খাবারে ফুক দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। সেটা নিজের খাবার হউক বা অন্যের খাবার কারণ মুখে ভাইরাস ব্যাটরোরিয়া থাকতে পারে। ফুক দিলে খাবারে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া চলে যাওয়ার বিষয়টি অসম্ভব নয়। এই বিষয়ে আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান ইসলামের সঙ্গে একমত কোন বিরোধ নেই।

১৫। পানি খাওয়ার সময় গ্লাসের ভিতর নিঃশ্বাস ফেলা ইসলামে নিষিদ্ধ কারণ সেই গ্লাস দিয়ে অন্য লোক পানি পান করতে পারে। নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া পানিতে চলে যেতে পারে সেটা গ্লাসেও লেগে থাকতে পারে। হতে পারে অন্য লোক পরিস্কার ভেবে সেই গ্লাসটি দিয়ে পানি পান করে ফেলতে পারে। কোন বিরোধ নেই এই বিষয়ে আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান ইসলামের সঙ্গে একমত।

১৬। মহানবীর সুন্নত হল তিনবারে পানি পান করা। তিনবারে পানি পান করলে গ্লাসে নিঃশ্বাস ফেলার প্রয়োজন হয় না। কারণ এক নিঃশ্বাসে খেতে গেলেই নিঃশ্বাস ফেলতে হয় সেই নিঃশ্বাস পানিতে বা গ্লাসের ভিতর চলে যায়। এই বিষয়ে আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান ইসলামের সঙ্গে একমত।

১৭। মহানবী সাঃ বাসি খাবার পছন্দ করতেন না এবং গ্রহন করতেন না। বাসি খাবারে যেমন থাকতে পারে ব্যাকটেরিয়া সেই সঙ্গে থাকতে পারে ভাইরাস। চিকিৎসা বিজ্ঞানও বাসি খাবার গ্রহনের বিষয়টি সমর্থন করে না।

১৮। মহানবী সাঃ খাবার উম্মুক্ত রাখা পছন্দ করতেন না কারণ উম্মুক্ত খাবারে মাছি বসে। এই সমস্ত মাছি অনেক নোংরা জায়গায়ও গিয়ে বসে এছাড়া অন্যান্য পোকামাকড়ও বসতে পারে ফলে যে কোন ব্যাকটেরিয়া সেই সঙ্গে ভাইরাস এদের মাধ্যমে খাবারে আসতে পারে। এই সমস্ত খাবার পেটে গিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই বিষয়ে আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞান ইসলামের সঙ্গে একমত।

ADs by Techtunes ADs

১৯। রোগ প্রতিরোধে মহানবী সাঃ মধু কালোজিরা সেবনের কথা বলেছেন। ইহা আজ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত যে, এই দুইটি খাবারই হল শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে নিশ্চয়ই মধুতে রয়েছে তোমাদের জন্য রোগমুক্তি। ইন্টারনেটে এই দুইটি খাবারের বিষয়ে প্রায় দুই কোটি আর্টিক্যাল রয়েছে।

২০। কোন জনপদবাসী মহামারীতে আক্রান্ত হলে মহানবী সাঃ সেই জনপদবাসীকে অনত্র যেতে নিষেধ করেছেন এর প্রকৃত কারণ হল তারা অনত্র গেলে অন্য মানুষ তাদের দ্ধারা আক্রান্ত হবে। জগতে এমন কোন যুক্তি আছে এই কর্মপ্রন্থাকে ভুল প্রমান করবে।

২১। কোন জনপদবাসী মহামারীতে আক্রান্ত হলে সেখানে অন্য জায়গা থেকে লোক প্রবেশ করতে মহানবী সাঃ নিষেধ করেছেন এর প্রকৃত কারণ হল বাহিরের লোক সেখানে গিয়ে যদি সেখান থেকে রোগ নিয়ে ফিরে আসে তাহলে রোগ ছড়িয়ে যাবে। জগতে এমন কোন যুক্তি আছে এই কর্মপ্রন্থাকে ভুল প্রমান করবে।

২২। মহামারীতে আক্রান্ত হলে মহানবী সাঃ বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করতে বলেছেন। যেহেতু নতুন মহামারীর কোন প্রতিষেধক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের জানা থাকে না তাই তিনি বুঝিয়েছেন যে, একমাত্র স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করতে বলেছেন। কারণ মানুষ নিরুপায় হয়ে গেলে তাকে কে বাচাতে পারে স্রষ্টা ব্যতিত। খুব ভালভাবে লক্ষ্য করুন একজন মানুষ বস্তুজগত থেকে নিরাশ এমতাবস্তায় সে হয় বসে থাকবে অথবা একজন স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করবে। কোনটি যুক্তিসংগত? বসে থাকা নাকি একজন স্রষ্টার কাছে রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা? মানুষকে যেহেতু প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী মরতে হবে তাই এমনটি ভাবার অবকাশ নেই সকলের প্রার্থনা তিনি শুনবেন। কারণ প্রত্যেকের জন্য দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি অবধারিত। তিনি চাইলে কাউকে রোগমুক্তি দান করবেন অথবা মৃর্ত্যু। করোনায় কিন্তু সবাই মারা যায়নি। বহু সংখ্যক সুস্থ্য হয়েছে। নিরেশ্বরবাদীদের চিন্তা বিশ্বাস যদি আমরা কিছুক্ষনের জন্য মেনে নিয়ে ধরে নেই যে, স্রষ্টা বলতে আসলে কেউ নেই। তাহলে যারা একজন স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছিল তারা কিন্তু কিছুই হারাবে না। বরং যারা প্রার্থনা করেনি বা স্রষ্টাকে অবিশ্বাস করেছে তারা কিন্তু অনেক কিছু হারাতে পারে যদি প্রকৃতপক্ষে স্রষ্টা বলতে কেউ থেকে থাকেন। আর মহানবী সাঃ প্রার্থনা বলতে তিনি শুধু দোয়া বুঝিয়েছেন সেটাও নয়। ইসলাম যদি শুধু দোয়া শিক্ষা দেওয়ার জন্য আসত পবিত্র কুরআনে এই কথা বলা হতো না নিশ্চয়ই মধুতে শেফা রয়েছে। সহীহ বুখারীতে বলা হতো না কালোজিরা রোগ প্রতিরোধকারী। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ইমানের অংশ বলা হতো না। বাসি বা নষ্ট খাবারকে গ্রহনের অযোগ্য মনে করা হতো না। সকল প্রচেষ্টা সেই সঙ্গে প্রার্থনা এই দুইটির সমন্বয় অপরিহার্য। চিকিৎসা গ্রহণকে বলা হয়েছে সুন্নত। এগুলো সবই ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত।

২৩। যে কোন রোগের জন্য চিকিৎসক অনুসন্ধান করা বা চিকিৎসা করানো ইসলামে নবী মোহাম্মদের সুন্নত রূপে পরিগনিত। দুনিয়ার সকল জাতীর কাছে ইহা একটি সার্বজনীন বিষয় হিসাবে বিবেচিত।

২৪। ইউরোপ আমেরিকার মানুষ এক সময় এতটাই অজ্ঞ ছিল যে, মানুষ রোগের জন্য চিকিৎসা নেওয়াটাকে নেতিবাচক বিষয় মনে করত। তারা এই ক্ষেত্রে হয় ইশ্বরকে বিশ্বাস করত বা ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মনে করত। সেখানে মুসলিম বিজ্ঞানীগণ গিয়ে মানুষের মধ্যে এই চিন্তা চেতনার আলো প্রজ্জলিত করেছে যে, চিকিৎসা মানবদেহের জন্য একটি কল্যানকর বিষয় এবং চিকিৎসা গ্রহন না
করার মধ্যে রয়েছে বহুবিদ অকল্যান।

২৫। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, ফলের মধ্যে তোমাদের জন্য উপকারীতা রয়েছে। কমলা, মালটা, আমলকি সহ আরও বহু ফল রয়েছে যেগুলো সরাসরি ভিটামিন সি এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট। ইহা আজ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত যে, যে সমস্ত খাবারে বেশী পরিমান ভিটামিন সি এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে সেই সমস্ত খাবার গ্রহন করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ফলে মানবদেহ ভাইরাস প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অর্জন করে।

২৬। নতুন নতুন মহামারি আসবে মহানবীর এই বার্তার প্রতিফলন পূর্বেও ঘটেছে এখনো ঘটছে।

২৭। মহান আল্লাহ পানি সৃষ্টি করেছেন। পানি হল বেচে থাকার মৌলিক উপকরন। মহানবী সাঃ জ্বর হলে পানি দ্ধারা চিকিৎসা করতেন। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী মহান আল্লাহর আরশ পানির উপর ছিল। পবিত্র কুরআনে অন্য এক জায়গায় বর্ণিত হয়েছে প্রত্যেক প্রাণী পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। চলমান শতাব্দির বিজ্ঞানীরা আজ এই বিষয়ে একমত যে, প্রত্যেক সৃষ্টজীবের মৌলিক উপাদানের একটি হল পানি। পবিত্র কুরআনের এক জায়গায় বর্ণিত হয়েছে, যদি পানি ভূগর্ভের অনেক নিচে চলে যায় তাহলে এমন কে আছে তোমাদের জন্য পানি সরবরাহ করবে। এভাবে পানির ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য নিয়ে একাধিক আয়াত রয়েছে এবং একাধিক হাদীস রয়েছে। আর আমরা চলমান শতাব্দীতে দেখতে পাই সমগ্র দুনিয়াব্যাপী ডাক্তারগন জ্বরের জন্য মাথায় পানি দিতে বলেন ও শরীর মুছতে বলেন সেই সঙ্গে ভাইরাস আক্রমনের রোগীদেরও পানি পান করতে বলেন। উনবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানীগণ পানি দ্ধারা বিদ্যুত উৎপাদন করেছেন। এই বিদ্যুতের তাৎপর্য প্রয়োজনীয়তা লিখে কখনো শেষ করা সম্ভব নয় আর সেজন্যই হয়ত মহানবী সাঃ এক হাদীসে পানিকে আগুনের চেয়েও শক্তিশালী একটি পদার্থরূপে অভিহিত করেছেন। সমগ্র দুনিয়াব্যাপী করোনা প্রতিরোধে পানির ব্যবহার সবচেয়ে বেশী।

২৮। এক হাদীসে এসেছে শেষ জামানায় এমন এমন রোগ আসবে যার কোন সঠিক চিকিৎসাই মানুষের জানা থাকবে না।

ADs by Techtunes ADs

এই বিষয়ে চাইলে আরও ব্যাপক আলোচনা করা সম্ভব তাই আলোচনা দির্ঘায়িত করা মূল উদ্দেশ্য নয়। এই সামান্য আলোচনার মাধ্যমে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব মহানত্ব কিছুটা প্রমান করাই এই লেখার উদ্দেশ্য। কুরআনের আয়াত ও হাদীসগুলোর রেফারেন্স উল্লেখ করতে পারিনি কারণ সেগুলো খুজতে গেলে সময় লাগবে। আমার দুইটি তাফসীর সম্পূর্ণ অধ্যয়ন করা আছে তাই বহু আয়াত ও হাদীস মুখস্ত রয়েছে। মসজিদের ইমাম সাহেবের মাধ্যমে আয়াত ও হাদীস সংগ্রহ করতে পারবেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে কুরআন তরজমা, তাফসীর, হাদীস পিডিএফ ডাউনলোড করে স্টাডি করে জানতে পারবেন। গুগল সার্চ দিয়েও এখন যে কোন তথ্য জানা যায় এবং অনেক সফটওয়ার চলে এসেছে। আমি কোন ভুল ইনফরমেশন দেইনি। আর কথা দিচ্ছি ভুল প্রমান করতে পারলে আর্টিক্যালটি সরিয়ে নিব বা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশোধন করে দিব। ধৈর্য নিয়ে আর্টিক্যালটি পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

ADs by Techtunes ADs
Level 0

আমি এমডি মাহমুদ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 9 মাস 3 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 8 টি টিউন ও 1 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

I am Md amdad ali al mahmud, Live in Dhaka, I am blogger & thinker, my five book waiting for publish in BD


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস