ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

কুরআন হাদিসে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যে দানের নির্দেশ অন্যথায় কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি

হযরত উমর রাঃ বলেছিলেন যদি আমার জনপদে একটি কুকুরও অনাহারে মারা যায় তাহলে সেজন্য আল্লাহর সামনে একদিন জবাবদিহি করতে হবে। যদি হযরত উমর রাঃ একটি কুকুরের মৌলিক অধিকার নিয়ে ভাবতে পারে তাহলে বর্তমান শাসকগণ আশরাফুল মাখলুকাত মানুষ নিয়ে কেন ভাবতে চায় না? উমরের মত শাসক যদি এখন ভাগ্যহত আদম সন্তানদের আর্তনাদ বা মানবিক বিপর্যয় দেখতেন তাহলে তিনি কি করতেন। তিনি কি এই অপেক্ষা করতেন দেখি পরিস্থিতি কোথায় যায়। আসলে পরিস্থিতি কোথায় যায় দেখতে দেখতে বহু আদম সন্তান হয় দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় কিংবা হৃদিয়ের আর্তনাদ এবং চোখের অশ্রু শুকিয়ে যায়। শিশুদের চিৎকারে হয় পিতা মাতার হৃদয় দীর্ণ-বিদীর্ণ। পুষ্টিহীনতায় বহু আদম সন্তানের কোষ মারা যায়, এই কোষগুলো হয়ত আর কখনো মানবদেহে জেগে উঠবে না ফলে এদের মধ্যে থেকেই অনাগত দিনে কেউ হবে পঙ্গু আর কেউ হবে অন্ধ বা দূর্বল। এদের সমগ্র জীবন হয়ত খোলা আকাশের নিচেই কাটবে।

ADs by Techtunes ADs

এখন কথা হল অবশিষ্ট চোখের পানিগুলোর কি হবে? হ্যা প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকার প্রতিশোধের জন্য প্রতিক্ষার প্রহর গুণতে হবে এটাই সত্য। আদম সন্তানদের চোখের পানিগুলো যেহেতু প্রকৃতির গহবরেই জমা হয় তাই প্রকৃতির বিদ্রোহ কোনভাবে অনাগত দিনে রোধ করা সম্ভব নয় কারণ সেগুলো শুধু নিছক পানি নয়। সেগুলো মহাকষ্ট মাখা পানি। এখন যদি আমাকে কেহ প্রশ্ন করে প্রকৃতির প্রতিশোধের ধরন কি? এর উত্তর হল অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, প্রচন্ড ঝর তুফানে ক্ষয়ক্ষতি, টর্নেডো, সাইক্লোন, রোগ-ব্যাধি, আগ্নিকান্ড, প্রচন্ড শীত বা প্রচন্ড গরম, বিভিন্ন প্রকার দূর্ঘটনা যা বর্হিবিশ্বে একটি দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়, বেকারত্ব ছিনতাই বৃদ্ধি, বিভিন্নভাবে পরিবার সমাজে রাষ্টে অশান্তির দাবানল। চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি, বিভিন্ন প্রকার বিদ্রোহ বা অভ্যন্তরিন কোন্দল, বৈদেশিক ষরযন্ত্র, এগুলো সবই হচ্ছে প্রকৃতির প্রতিশোধ। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে “তোমাদের মন্দ কর্মনীতি তোমাদের বিরুদ্ধে যায়” প্রকৃতির প্রতিশোধের রহস্য উক্ত আয়াতেই লুকিয়ে আছে। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য উক্ত আয়াতে রয়েছে বহু নিদর্শন তবে অনুধাবন করতে হলে প্রয়োজন অন্তরদৃষ্টি ও পরিশুদ্ধ চিন্তা।

মানবিক বিপর্যয় বা সমস্যাগ্রস্থ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কিভাবে দ্রুত মানুষের সমস্যা সমাধান করতে হবে সেই আলোচনা বিভিন্ন ব্লগ ফোরামে কম বেশি লেখা হচ্ছে সন্দেহ নেই তবে যতটুকো হচ্ছে যথেষ্ট নয়। সরকার চাইলে এই কর্মপ্রদ্ধতি গ্রহন করতে পারে। ১। মোবাইল লোড থেকে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ টাকা কর্তন করতে পারে এতে কেহ আপত্তি করবে বলে মনে হয় না। ২। ব্যাংকে যার এক লক্ষ টাকা আছে তার একাউন্ট থেকে একশত টাকা কর্তন করতে পারে। যার এক কোটি টাকা আছে তার একাউন্ট থেকে এক হাজার টাকা কর্তন করতে পারে। যার একশ কোটি তার একাউন্ট থেকে এক লক্ষ টাকা কর্তন করতে পারে। ৩। একটি জরুরী ফান্ড গঠন করতে পারে। এই ফান্ডে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সবাইকে সহযোগিতার আহবান জানাবে। ৪। বাংলাদেশ আলেম উলামা পীর মাশায়েখের দেশ। একেক জন পীরের বহু ধনী মুরিদ রয়েছে তারা প্রত্যেকেই একটি মানব কল্যান ফান্ড প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ৫। রয়েছে বাংলাদেশে প্রচুর কালো টাকা। এভাবে আরও বিভিন্ন কর্মপ্রন্থা অবলম্বন করলে প্রচুর টাকা সংগ্রহ হবে কোন সন্দেহ নেই। এই সমস্ত টাকা ব্যয় করলে একজন পরিবারকেও অনাহারে থাকবে না বলে আমার বিশ্বাস।

এই মুহুর্তে বহু পরিবারে ঔষধ নেই। বহু পরিবারে খাদ্যের অভাব রয়েছে। বহু পরিবার বাড়ি ভাড়া দিতে অক্ষম। বহু পরিবার রোগী হাসপাতালে নিতে পারছে না। বহু পরিবারের আয় রোজগার বন্ধ। বহু পরিবার অনাহারে অর্ধাহারে। বহু ব্যবসায়ী চলতি মাসে কর্মচারীদের বেতন দিতে পারবে না। এই সমস্ত দায়িত্ব শুধু সরকারের মনে করলে ভুল হবে। ধনী লোকদেরও দ্বায়বদ্ধতা রয়েছে। যে সমস্ত পরিবার আজ খাদ্য সংকটের মধ্যে নিপতিত অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে প্রায় সকলেরই ধনী বা সচ্ছল আত্মীয় রয়েছে। তারা এই সময় তাদের প্রতি কতটুকো দায়িত্ব পালন করছে সেটাই দেখার বিষয়। তারা যদি এই সময় তাদের দায়িত্বের কথা ভুলে যায় বা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তারা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কিছু লোকের ধারণা হল প্রতি বছর যাকাত দিতে পারলেই মনে হয় দ্বায়বদ্ধতা আর থাকে না।

মনে রাখতে হবে পবিত্র কুরআনের বহু জায়গায় যাকাত আদায়ের পাশাপাশি নফল দানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে “ফেরেস্তারা জাহান্নামীদের প্রশ্ন করবে কিসে তোমাদের জাহান্নামে নীত করেছে? তারা বলবে আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। অভুক্তদের খাদ্য দান করতাম না। সূরা মোদ্দাসসের। তাহলে বুঝা গেল এই দুইটি কর্মনীতি জাহান্নানে যাওয়ার কারণ। অন্য এক জায়গায় বলা হয়েছে “যে ব্যক্তি একজন অভুক্তকে আহার করাল সে যেন একটি দূর্গমপথ অতিক্রম করল। লক্ষ্য করুন উক্ত আয়াতে কিন্তু মুসলিম বলা হয়নি, বলা হয়েছে অভুক্ত। এই শব্দে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকলেই অন্তর্ভুক্ত। সেজন্যই পবিত্র কুরআনের বহু আদেশ বিশ্বজনীন। পবিত্র কুরআনের অনত্র বলা হয়েছে “সে দূর্গম পথ পারি দেওয়ার হিম্মত দেখায়নি। তুমি কি জান সে দূর্গম পথটি কি? কারো দাসত্বের শিকল খুলে দেওয়া। দূর্ভিক্ষের দিনে কাউকে খাবার দেওয়া। নিকটতম আত্মীয় ও ইয়াতিমদের নিকট খাবার পৌছানো। ধুলো লুন্ঠিত কোন মিসকিনকে খাবার দেওয়া।

হাদীস শরীফের বর্ণনা আরও ভয়ংকর। মহানবী সাঃ এরশাদ করেন, সে মুমিন নয়, যার প্রতিবেশীর খাবার নেই অথচ সে নিজে পেট ভর্তি করে খায়। লক্ষ্য করুন এখানে কিন্তু মুসলিম বলা হচ্ছে না, প্রতিবেশী বলা হচ্ছে, এই শব্দে মুসলিম, অমুসলিম, নাস্তিক সবাই অন্তর্ভুক্ত আর সেজন্যই শেষনবীর বহু আদেশ ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য বিশ্বজনীন। হযরত আবুবকর রাঃ একসময় তার অমুসলিম আত্মীয়দের দান করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। মহানবী সাঃ এই ঘটনা শ্রবন করে হযরত আবুবকরকে তার দান ও সহযোগীতার হাত অমুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রসারিত রাখার নির্দেশ দিলেন। জগতে বহু মুসলিম আছে এমন যাদের দানের হাত অমুসলিমদের জন্য সংকীর্ণ এবং বহু অমুসলিম আছে এমন যাদের দানের হাত অন্য ধর্মের লোকদের জন্য সংকীর্ণ। এই সমস্ত লোকদেরকে পবিত্র কুরআনের বানী ও মহানবীর বানী থেকে এখনই শিক্ষা নেওয়ার সময় অন্যথায় হতে পারে তাদের অনেক সম্পদ নষ্ট হয়ে যাবে। নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করবে ফলে মানুসিক ভারসাম্যতা নষ্ট হয়ে যাবে। বিভিন্ন কারণে ব্যবসা বানিজ্যের ক্ষতি হবে। রোগব্যধির ফলে বহু টাকা সেখানে ব্যয় হয়ে যাবে। সম্পদ চুরি যেতে পারে। সম্পদে বরকত কমে যেতে পারে কিংবা অন্ততপক্ষে তাকে সবকিছু রেখে যেতে হবে সন্দেহ নেই ফলে পরজগতে গিয়ে তারা মুক্তি নাও পেতে পারে। অথচ তারা ইহজগতে থাকাকালীন সময় ভাগ্যহত আদম সন্তানদের জন্য অর্থ ব্যয় করে জান্নাতী হতে পারত আর পরজগতে দীর্ঘকালের জন্য জাহান্নামের অধিবাসী হওয়ার চেয়ে বড় ক্ষতি আর কি হতে পারে।

কিছু লোক আছে এমন যারা মনে করে কেউ মরে গেলে তার জন্য মিলাদ মাহফিল, চল্লিশা মৃত্যুবার্ষিকী ইত্যাদির মাধ্যমে আলেমদের ভাড়া করে এনে দোয়া করালেই সম্ভবত তারা জান্নাতী হয়ে যাবে! বস্তুত পবিত্র কুরআনে এই সমস্ত সস্তা কোন অঙ্গিকার নেই যারা ইহলোকে প্রতিনিয়ত মহান রবের মৌলিক আদেশগুলোকে পদদলিত করেছে। কারো মুক্তির জন্য প্রার্থনা, কুলখানি বা কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি বিষয়কে সব সময় সম্ভাব্য মনে করতে হবে, সুনিশ্চিত মনে করা যাবে না তাহলে ইমানের ক্ষতি হতে পারে। যেমন পবিত্র কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, প্রার্থনা বা নসিহত মুমিনদের জন্য উপকারী। শর্ত রাখা হয়েছে তাকে মুমিন হতে হবে। অন্য এক হাদিসে এসেছে, কোন সন্তান পিতা মাতার কবরে গিয়ে তাদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য প্রার্থনা করলে আল্লাহ তার পিতা মাতাকে ক্ষমা করেন। এখানেও শর্ত সন্তানকে মুমিন হতে হবে। সন্তান বড় গোনাহে লিপ্ত থাকলে কিংবা ফাসেক হলে পিতার মাতার জন্য তার আবেদন মঞ্জুর হবে এমন প্রতিশ্রুতি নেই। আর প্রার্থনার মাধ্যমে পিতা মাতার কোন অপরাধ ক্ষমার যোগ্য আর কোন অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য সেই বিষয়টি কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ব্যতিত আর কেউ জানে না এবং মুক্তির সিদ্ধান্ত এককভাবে তার হাতে, হতে পারে আল্লাহর বিচারে ক্ষমার যোগ্য হলে মুমিন সন্তানের দোয়ার বরকতে আল্লাহ ক্ষমা করবেন এবং ক্ষমার অযোগ্য হলে শাস্তির মাত্রা কমাবেন পরে একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত শাস্তি আস্বাদন করার পর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

সুতরাং কেউ যদি মনে করে মিলাদ মাহফিল, দোয়া প্রার্থনা ইত্যাদির মাধ্যমে কেউ সুনিশ্চিত জাহান্নামী থেকে জান্নাতি হয়ে যাবে তাহলে আমি বলব এর স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন হাদিসে যেমন কোন দলিল প্রমান নেই এবং কোন সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীন, কোন মুহাদ্দেসীন কোন মুফাসরিসিনের পক্ষ থেকে এর স্বপক্ষে কোন দলিল পাওয়া যাবে না। তাই মুসলিমদের অবশ্যই জান্নাতের সস্তা অঙ্গিকারের বিষয় থেকে খুবই সাবধান থাকতে হবে। এই সমস্ত সস্তা অঙ্গিকারের কারণেই মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে দুনিয়াতে যতটুকো কাজ করার প্রয়োজন ততটুকো করতে পারে না। উক্ত আর্টিক্যালে যা বর্ণনা করেছি বর্তমান সময়ের কোন আলেম উলামাও দ্বিমত পোষন করতে পারবে না বলে আমার দৃয় বিশ্বাস। কিছু লোকের হৃদয়জগতে হয়ত এখন এই সমস্ত প্রশ্নের উদয় হবে যে, পাচ ওয়াক্ত সালাতের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে জান্নাতি, বাদ ফজর বাদ মাগরিব সাতবার আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার পরলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি, বাদ ফজর বাদ মাগরিব সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পরলে সত্তর হাজার ফেরেস্তা দোয়া করবে, সূরা মুলক পড়লে কবরের আযাব হবে না ইত্যাদি আমলের বিনিময়ে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি হাদিসে বর্ণিত। এই প্রশ্নের উত্তর হল, হাদীসগুলো সহীহ হলে আমার আপত্তি নেই। তবে অবশ্যই মুক্তির বিষয়টি একান্তই নির্ভর করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উপর। কাকে তিনি প্রথমেই বাচিয়ে দিবেন আর কাকে একটি দীর্ঘ সময় শাস্তি দানের পর মুক্তি প্রদান করবেন সেই সিদ্ধান্তের মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।

বস্তুত ক্ষমার প্রতিশ্রুতি এমন মুমিনদের জন্য যারা ধর্মীয় অনুশাসন মেলে চলার পাশাপাশি কিছু ভুলত্রুটি তাদের দ্ধারা হয়ে যেত কিন্তু সেগুলো মারাত্মক বা ভয়ংকর কোন অপরাধ নয়। ক্ষমা তাদের জন্য নয় যারা মহান রবের মৌলিক নির্দেশগুলো তারই সন্তুষ্টির জন্য পালনের পরিবর্তে সেগুলোকে স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে অমান্য করে করে চলত। তারা হয়ত জান্নাতে যাবে তবে আল্লাহর ইচ্ছামাফিক একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত শাস্তি আস্বাদনের পর। তবে আল্লাহ চাইলে ইমান ও কোন সৎকর্মের জন্য প্রথমেই মুক্তিদান করতে পারেন তবে সেই ভাগ্যবান ব্যক্তি কে সেটা আল্লাহ ব্যতিত কেউ জানে না। সস্তা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী লোকদের জন্য ইমাম শাফেয়ী রাহ.এর এই বানীতে সচেতন হবার পরামর্শ রয়েছে। তিনি বলেছেন “মৃত ব্যক্তির জন্য যা আমল করা হয় সেগুলো তার নিকট পৌছে না” এই বক্তব্যের সঙ্গে এই হাদীস সাংঘর্ষিক নয় যেখানে বলা হয়েছে “নেককার সন্তান, সদকা, ভালকাজ মৃত ব্যক্তির জন্য চালু থাকে” ইমাম শাফেয়ী হয়ত বুঝাতে চেয়েছেন “কেউ কুরআন খতম করে বা কিছু দোয়া পড়ে যদি বলে মৃত ব্যক্তিকে বকশিশ করলাম অতপর সে ভাবল তার খতম-দোয়া মৃত ব্যক্তির আমলের সঙ্গে যোগ হয়ে গিয়েছে কিংবা সে বেচে গিয়েছে এমনটি ভুল। একজন যদি অন্যের প্রার্থনায় সহজে জাহান্নামী থেকে জান্নাতী হয়ে যায় তাহলে আল্লাহ কিভাবে আহকামুল হাকেমিন হতে পারে।

সূরা মূলকে বলা হয়েছে “নিশ্চয় মানুষকে মৃত থেকে জীবিত করেছি পরীক্ষার জন্য যেন আমি দেখে নিতে পারি তাদের মধ্যে কর্মে কে উত্তম” এই আয়াতটি তাহলে কোথায় রাখবেন। ইমাম যাহাবী তার বিখ্যাত গ্রন্থ “কবিরা গোনাহ” বইতে সত্তরটি গোনাহের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি তার বইতে পবিত্র কুরআনের বহু আয়াত ও হাদীস দিয়ে সেই সমস্ত গোনাহের ভয়াবহতা এবং ইহকাল পরকালের শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তার কিতাবে আনীত এত সংখ্যক কুরআনের আয়াত ও হাদীস সমুহ তাহলে অস্বীকার করতে হবে যদি একজন অন্যজনের প্রার্থনায় বেচে যাওয়ার ধারণাটি মেনে নিতে হয় বা সঠিক হয়। মনে রাখবেন পূর্বের প্রায় সকল মুফাসসিরগণ একমত পবিত্র কুরআনের কোন আয়াতের তাফসীর অন্যান্য আয়াতে থাকলে সেটাই তাফসীর। তারপর হাদীস। ঈজমা, কিয়াস, ইতিহাস, বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল ইত্যাদি। পূর্বের অধিকাংশ মুফাসসিরিনদের নিকট কুরআন ব্যাখ্যার মূলনীতি এটাই ছিল। আজকের আর্টিক্যালে যদি শিক্ষনীয় কিছু বিষয় থাকে তাহলে আমার পাচ ঘন্টা সময় শ্রম সার্থক হবে। কারো চোখে কোন ভুল পরিদৃষ্ট হলে দলিল প্রমান দিয়ে টিউমেন্ট করুন তাহলে সংশোধন করে দেওয়া হবে। এই আর্টিক্যালটিকে কেহ নিছক একটি ইসলামিক বা ধর্মীয় আর্টিক্যাল ভাববেন না তাহলে ভুল করবেন, প্রসঙ্গক্রমে পবিত্র কুরআন হাদীস আনতে হয় কারণ মুসলিমজাতীর নিকট পবিত্র কুরআন ও মহানবীর বানী সবচেয়ে বেশী অগ্রাধিকার পাওয়ার বিষয়টি বিবেচিত। অন্যান্য ধর্মগ্রন্থগুলোতেও এই সমস্ত বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইংগিত রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীগণও একটি জাতী বা দেশের জন্য উপরোল্লিখিত বিষয়বস্তুর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পারবে না।

ADs by Techtunes ADs

ADs by Techtunes ADs
Level 0

আমি এমডি মাহমুদ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 11 মাস 4 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 8 টি টিউন ও 1 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

I am Md amdad ali al mahmud, Live in Dhaka, I am blogger & thinker, my five book waiting for publish in BD


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস