চলুন জেনে আসি প্লাস্টিক বিহীন এক পৃথিবীর গল্প

টিউন বিভাগ প্রতিবেদন
প্রকাশিত
জোসস করেছেন
Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশাকরি সকলেই আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছেন। বরাবরের মতো আজকেও হাজির হয়েছি নতুন একটি টিউন নিয়ে।

একসময়ের বৈপ্লবিক আবিষ্কার প্লাস্টিক। এই প্লাস্টিক কে বর্তমানে বলা হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মূল কারণ। তবে আপনি কখনো কি ভেবে দেখেছেন কি এমন হতো যদি প্লাস্টিক আবিষ্কারই না হতো। প্লাস্টিক আবিষ্কার না হলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেই বা এর কি প্রভাব পড়তো? অথবা এই একটি জিনিসের ব্যবহার বাদ দিলে কি পরিমান জলজ প্রজাতির প্রাণ বাঁচানো যেত?

চলুন এবার জেনে আসি প্লাস্টিক বিহীন জীবন আসলে কেমন হতো?

আমরা যে প্লাস্টিক ব্যবহার করি এগুলো সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস কিংবা রাসায়নিক যৌগ। ছিঁড়ে ফেলা কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলা কোনোভাবেই এ অপচনশীল দ্রব্যটি ধ্বংস হয় না। বরং এটি যেখানেই ফেলা হয় সে জায়গার জন্য এটি ক্ষতি ডেকে আনে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করা অথবা ফেসওয়াশে মুখ ধোয়া থেকে শুরু করে যে বক্সে খাবার নিয়েছেন অথবা পানির যে বোতলে আপনি চুমুক দিচ্ছেন এসবই প্লাস্টিক দ্বারা তৈরি। এছাড়া আপনার ঘরে ব্যবহৃত সাশ্রয়ী মূল্যে ইলেকট্রনিকের যেসব পণ্য ব্যবহার হচ্ছে সবকিছুতেই প্লাস্টিকের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন কি হতো যদি প্লাস্টিকই না থাকতো। এছাড়া আপনি বর্তমানে যে এ স্মার্টফোনটি ব্যবহার করছেন এটিও হয়তোবা প্লাস্টিকের তৈরি।

পরিসংখ্যান বলছে ও ১৯৫০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের দশমিক ৩ বিলিয়ন টন প্লাস্টিক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ৯ শতাংশ রিসাইকেল করা হয়েছে, ১২% পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং বাকি ৭৯ শতাংশ প্লাস্টিক পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশে রয়েছে। বলা হয়ে থাকে এইসব প্লাস্টিক যদি একসাথে জমা করা হয় তাহলে এসব মাউন্ট এভারেস্টের চেয়ে উচ্চ হবে।

প্রাকৃতিক পরিবেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব প্লাস্টিকের একটি বড় অংশ সমুদ্রের মাঝে মিশে যায়। যা জলজ প্রাণীর খাদ্যের সাথে মিশে গিয়ে তাদের বিলুপ্তির পথে নিয়ে যাচ্ছে। যদি এই প্লাস্টিকের ব্যবহার মানুষ বাদ দিতো তাহলে অনেক জলজ প্রাণীর প্রাণ রক্ষা করা যেত।

কিন্তু প্রশ্ন হল প্লাস্টিক বিহীন আমাদের কি হত? আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কি এর প্রভাব পড়তো? বা আসলেই আমরা প্লাস্টিকের উপর কতটাই নির্ভরশীল।

আমাদের দৈনন্দিন কাজের চাপে মনকে প্রফুল্ল রাখতে চা খেয়ে থাকে। কিন্তু এই চায়ের মূল উপাদানের টি ব্যাগ ও পলিথিন দিয়ে তৈরি। পলিথিন ছাড়া টি ব্যাগ তৈরি করা সম্ভব হতো না। কারণ টি ব্যাগ ও পলিইথিলিন দিয়ে তৈরি করা। পেপার কাপেও কিন্তু চিকন লেয়ারের প্লাস্টিক থাকে। তা না হলে এর ভেতরে লিকুইড আর রাখা সম্ভব হতো না। প্লাস্টিক ছাড়া কোন লিকুইড বা তরল পদার্থ জাতীয় সামগ্রী কাচের বোতলে বিক্রি হতো। যেটি হতো অনেক ব্যয়বহুল।

প্লাস্টিক বিহীন পৃথিবীতে মাংস বা চিপস জাতীয় সামগ্রীগুলো পেপারে মুড়িয়ে বিক্রি হতো। আর এসব সামগ্রী প্যাক করার জন্য ব্যবহৃত হতো হার্ড বোর্ড।

প্লাস্টিকের কারণে খাবার দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে। তাই প্লাস্টিক বিহীন দীর্ঘ সময় খাবারের সতেজতা ধরে রাখা কঠিন হতো। সে ক্ষেত্রে অন্য দেশ থেকে আমদানির বদলে নিজেদেরকেই বেশি খাদ্য তৈরি করতে হতো। এক্ষেত্রে সব দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হতো।

প্লাস্টিক বিহীন আমাদের পোশাক পরিচ্ছদের মধ্যে জামা কাপড় গুলো শুধু প্রাকৃতিক ফাইবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো। থাকতো না পলেস্টার এর মোজা, লাইলনের জামা কিংবা উন্নত মানের জ্যাকেট।

প্লাস্টিক বিহীন পৃথিবীতে তাপ বা পানিরোধক সেফটি ওয়ার থাকতো না। প্লাস্টিক ব্যতীত মোবাইল, কম্পিউটার কিংবা অন্য কোন ডিজিটাল ডিভাইস এর সস্তা হার্ডওয়্যার সামগ্রী তৈরি করাই সম্ভব হতো না। ফলে ডিজিটাল ডিভাইস গুলোর দাম হত আকাশচুম্বী। যার ফলে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন টি হয়তোবা এখনো আপনার হাতে পৌঁছেতো না। সাশ্রয়ী মূল্যে আমরা যেসব সামগ্রী পাচ্ছি তা একমাত্র সম্ভব হয়েছে প্লাস্টিকের জন্য।

তবে এতকিছুর পরেও যদি প্লাস্টিকের ব্যবহার না থাকতো তাহলে আমরা নিজেদের পৃথিবীকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে পারতাম। প্লাস্টিকের কারণে পরিবেশ বর্তমানের মতো বিপর্যয়ের হাতে পরতো না। আর ধ্বংসের মুখে পতিত হতে না পৃথিবীর ৭০০ এর ও বেশি জলজ প্রজাতি। সুস্থ এবং সুন্দর থাকতো আমাদের পৃথিবী।

বন্ধুরা এই ছিল প্লাস্টিক নিয়ে আজকের টিউন। টিউনটি কেমন হয়েছে তা অবশ্যই টিউনমেন্ট এ জানাবেন। টিউনটি ভাল লাগলে জোসস করবেন। আজ এ পর্যন্তই, দেখা হচ্ছে পরবর্তী টিউনে আরো নতুন কিছু নিয়ে ইনশাআল্লাহ। সে সময় পর্যন্ত টেকটিউনস এর সঙ্গেই থাকুন। আসসালামু আলাইকুম।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 মাস 1 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 100 টি টিউন ও 49 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 11 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস