ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

বিজ্ঞানের খাতা [পর্ব-০৬] :: বিরোধী বায়োটিক পেনিসিলিন (প্রথম এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের গল্প)।

বিজ্ঞানের খাতা

বাংলাদেশ বিরোধীবাদ। নাহ এটা কোন ঘোষিত মতবাদ নয়, তবে বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত একটি মতবাদ। আরে বুঝতে পারলেন না। বিরোধীবাদ বলতে আমি বিরোধী দলকে বাদ দেয়ার কথা বলছি না। সকল মতের বিরোধীতা করার আওয়ামী ও বিএনপির যে অঘোষিত মতবাদের কথা বলছি। বিরোধি মানেই তো এন্টি। এন্টিবায়োটিক মানে কি দাঁড়ায় তাহলে?

ADs by Techtunes ADs

জীবন ফিরিয়ে দেয়ার গল্প

আজকের দিনে এন্টিবায়োটিক বহুল প্রচলিত ওষুধ। এমনো দেখা যায় অনেক ডাক্তার হাই এন্টিবায়োটিক ছাড়া প্রেসক্রিপশান লিখতেই পারেন না। তাতে আপনার মাথা ঘুরাক আর বমি বমি ভাব হোক তাতেই কিছুই আসে যায় না ডাক্তারের। পৃথিবীর প্রথম এন্টিবায়োটিক কোনটা বলতে পারেন। থিকই ধরেছেন। পেনিসিলিন। আমাদের বহুল পরিচিত একটা টার্ম। কি কাজে কোথায় লাগে নিশ্চয় জানেন। না জানলে ডাক্তারকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। তাই বেশী বক বক না করে আমি সংক্ষেপে বলে চলে যাই পেনিসিলিনের কথা।

ছত্রাক

পেনিসিলিন স্ট্রাকচার

আলেক্সান্ডার ফ্লেমিং চিকিৎসা শাস্ত্রের আলক্সান্ডার দ্যা গ্রেট পেনিসিলিনের আবিষ্কারক। তার বাড়ী ছিলো স্কটল্যান্ডে। পেশায় তিনি ছিলেন একজন অনুজীববীদ ( ব্যাকটেরিওলজিস্ট)। ১৯২৮ সাল। ফ্লেমিং দুই সপ্তাহ ছুটি নিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহ পরে তিনি কাজে ফিরে এলেন। সব কিছু ঝেড়ে মুছে আবার কাজে যোগ দেয়া যাক। ডিশে তিনি কিছু ব্যাকটেরিয়া রেখে গেছিলেন। চোখ বুলিয়ে দেখতে চাইলেন তাদের কি অবস্থা। ফ্লেমিং এর নজরে এলো তার একটা পেট্রিডিশের উপর কিছু ছত্রাক জন্মে আছে। তিনি অনুজীববীদ। ছত্রাকটাকে তার কাছে অচেনা মনে হলো। আমরা হলে পানি দিয়ে ধুয়ে খালাস করে দিতাম। ফ্লেমিং তা করলেন না। এখানেই তো জিনিয়াসদের সাথে আমাদের পার্থক্য। ফ্লেমিং লক্ষ্য করলেন পাত্রে রাখা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ছত্রাক জন্মানো জায়গায় শূন্য। তার মানে এই ছত্রাকের এমন কোন ক্ষমতা আছে যা কিছু মাইক্রোঅর্গাজমকে প্রতিহত করতে পারে। ফ্লেমিং ছত্রাকগুলো সংগ্রহ করলেন। আরো বেশী পরিমানে চাষ করে ছত্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি করলেন। যাতে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে কম না পড়ে।

ফ্লেমিং এর আবিষ্কারের সাথে সাথে পেনিসিলিন ব্যবহার শুরু হয়ে যায় নাই। অন্যান্য বিজ্ঞানীদের অসীম অবদান আছে এটার পেছনে। এই ঘটনার ১৩ বছর পর হাওয়ার্ড ফ্লোরে, নরম্যান হার্টলে এবং এন্ড্রু মোয়ার পেনিসিলিন ছত্রাককে আবার আলোয় নিয়ে আসেন। তারপর থেকে চিকিৎসা শাত্রে সূচনা হয় এক নতুন অধ্যয়ের। এন্টিবায়োটিক যুগ।


ইনিই সেই বিখ্যাত , চিকিৎসাজগতের আলেক্সান্ডার দ্যা গ্রেট।
নাম- আলেকজান্ডার ফ্লেমিং।
জন্ম-৬ আগষ্ট ১৮৮১ এবং মৃত্যু-১১ মার্চ ১৯৫৫ ।
বাসস্থান-স্কটল্যান্ড, জাতীয়তা-স্কটিশ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- সেন্ট মরিস হাসপাতাল মেডিক্যাল স্কুল।

ADs by Techtunes ADs

কৃষক পরিবারের সন্তান ফ্লেমিং এর শৈশব কৈশর কেটেছে দারিদ্রের কষাঘাতে। সাত বছর বয়সে তিনি পিতৃহারা হন। অভাবের কারণে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। ভাইদের সাথে ফ্লেমিং লন্ডন শহরে চলে এলো বোনের কাছে। তখন ফ্লেমিং এর বয়স চৌদ্দ। ষোল বছর বয়সে ফ্লেমিং জাহাজ কোম্পানীতে ফাইফরমাশ খাটা শুরু করল। জাহাজের সেই পরাক্রমশালী মালিক, নাবিক সবাই আজ কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। কিন্তু জাহাজের সেই কাজের ছেলেকে ইতিহাস আজো মনে রেখেছে বিনম্র শ্রদ্ধায়। তোমাদের নিশ্চয়ই জানার আগ্রহ হচ্ছে ফ্লেমিং কিভাবে অসাধ্যকে সম্ভব করেছিলেন। আমি তো ভাই জীবনী লিখতে বসিনি। সংক্ষেপে বলি।

ফ্লেমিং এর চাচার বেশ খানিকটা সম্পত্তি ছিলো। কিন্তু তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। সে মারা যাওয়ার পর আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তির মালিক হন ফ্লেমিং ভাইয়েরা। ফ্লেমিং এর বড় ভাই চাইলেন ছোট ভাইকে লেখা পড়া শেখাতে। ফ্লেমিং জাহাজ কোম্পানীর চাকরী ছেড়ে দিয়ে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হলেন। তখনকার দিনে তো আর এখনকার মত এডমিশান টেস্ট দিয়ে ভর্তি হতে হতো না। টাকা আর আগ্রহ থাকলেই ডাক্তারী পড়া যেত। মেধাবী ফ্লেমিং অল্প দিনেই সবাই কে পেছনে ফেলে চলে এলেন সামনের কাতারে। শেষ পরীক্ষায় হয়ে গেলেন প্রথম। অনেকটা বাংলা সিনেমার মত। রেসে নায়ক সবার পিছে দৌঁড় শুরু করলেও প্রথম হয়। এরপর তিনি সেন্ট মেরিজ হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে যোগ দিলেন।

কাজ পাগল এক বিজ্ঞানী


যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখিবে তাই। থুক্কু, যেখানে দেখিবে মোল্ড, ফ্রিজে রেখে তাই করে নেবে কোল্ড।

(গবেষণায় নিমগ্ন ফ্লেমিং)

পেনিসিলিনের কিছু বাস্তব রূপঃ

ADs by Techtunes ADs

অসাধারণ প্রতিভাধর ফ্লেমিং ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ রাজার কাছ থেকে ব্রিটেনের সম্মানজনক নাইট উপাধি লাভ করেন। ফ্রান্স সরকার ফ্লেমিংকে প্যারিসে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যায়। প্যারিসের সংবর্ধনা, এটা তখনকার সময়ের বিজ্ঞানীদের জন্য একটা বিরল ঘটনা। ১৯৪৫ সালে ফ্লেমিং ড: চেইন এবং ফ্লোরির সাথে যৌথভাবে পেনিসিলিন আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান। ফ্লেমিং নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার পরে বলেন এই পুরষ্কার খোদার পাওয়া উচিত।

ADs by Techtunes ADs
Level 2

আমি সরদার ফেরদৌস। Asst Manager, Samuda chemical complex Ltd, Munshiganj। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 9 বছর 1 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 94 টি টিউন ও 466 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।

আমি ফেরদৌস। জন্ম সুন্দরবনের কাছাকাছি এক জনপদে। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে লেখাপড়া করেছি এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। এরপরে চাকরি করছি সামুদা কেমিকেল কমপ্লেক্স লিমিটেডের উৎপাদন বিভাগে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে। এছাড়া আমি বাংলা উইকিপিডিয়ার একজন প্রশাসক।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

খুবই সুন্দর টিউন করেছেন, সাজানো ও গোছানো। আপনার তাতী লেখকের ঠিকা আমার ভাল লেগেছে।