ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

বিজ্ঞানের খাতা [পর্ব-২০] :: প্রথম গণনাযন্ত্র এব্যাকাস আবিষ্কারের কথা।

বিজ্ঞানের খাতা

ক্লাস টুতে পড়ার সময় স্যার যদি বলতেন, দুইয়ের ঘরের নামতা বল। এখনকার দিনের স্কুলের আপুমনিদের মত তারা বলো বাবা বলতেন না, ডাইরেক্ট মায়ের মত অর্ডার করতেন বল। আমি মাথা চুলকে দুইয়ের ঘরের নামতা মনে করার চেষ্টা করতাম। মাথা একটু চুলকে দিলে সব কিছু কিভাবে যে মনে পড়ে যায় এই থিওরি আজো আমি আবিষ্কার করতে পারলাম না। আজকের দিনে ক্লাশ টু এর কোন ছাত্রকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, বাবা বলো তো আট দুগুনে কত? সে প্রথমে টিচারের চোখের দিকে তাকাবে, তারপর ধীরে সুস্থে ব্যাগের সাইড পকেট থেকে ক্যালকুলেটর বের করে গণনা করে বলবে, ষোল। ক্যালকুলেটর আমাদের মাথাকে দিয়েছি শান্তি মেধাকে করেছে খর্ব। আচ্ছা গোনাগুনি যদি না থাকত তাহলে কেমন হত! যেমন ধরেন এই শুন্য সংখ্যাটা। ভারতীয়রা আবিষ্কার করার আগে তো এটার অস্তিত্বই ছিলো না। তখন মানুষ কিভাবে সংখ্যা গুনত?

ADs by Techtunes ADs

প্রস্তর যুগ পেরিয়ে মানুষ যখন সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস শুরু করে, শিকার পর্ব ছেড়ে চাষাবাস, পশুপালনে মনোনিবেশ করে তখনই গননার প্রয়োজন অনুভব করা শুরু করে। কারন গরু ছাগল ভেড়া মাঠে নিয়ে গেলো ঘাস খাওয়াতে। যদি সে নাই জানলো কয়টা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছে তাহলে ফিরিয়ে আনবে কিভাবে। দু চারটে বেশী হলে মন্দ কি কিন্তু যদি কম পড়ে যায়! প্রাচীন যুগে মানুষ বিচিত্র উপায়ে গণনা করত। যেমন ধরা যাক দশটা ছাগল গুনতে হবে। তারা দশটা ছাগল গোনার জন্য দশটা পাথর নিত। যোগ বিয়োগের হিসাব কষতে নতুন পাথর যোগ করা হত অথবা সরিয়ে নেয়া হত। চাঁদে পা রেখে নীল আর্মস্ট্রং কি বলেছিলেন মনে আছে। মানুষের ছোট ছোট পদক্ষেপ মানব জাতির জন্য বৃহৎ পদক্ষেপ।

এই গণনা পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে abaci নামের গনণাযন্ত্র আবিষ্কার করা হয়। মানুষের তৈরী প্রথম ব্যক্তিগত ক্যালকুলেটর হলো এব্যাকাস। পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে চীনারা প্রথম এব্যাকাস নির্মান করেন। এটা কাঠ দিয়ে তৈরী করা হয়। এটাতে ধরার হাতল ছিলো এবং সহজে এক স্থান হতে অন্যস্থানে বহন করে নেয়া যেত। এব্যাকাসের সফলতা এত বিশাল ছিলো যে এটা চীনের সীমানা পেরিয়ে আরো অনেক দেশে বিস্তৃতি লাভ করে। কিছু মানুষ অতীতকে লালন করতে ভালোবাসে। তাই পৃথিবীর অনেক দেশে এখনো এব্যাকাস খুঁজে পাওয়া যায়।

এফ রহমানের ব্লগ

এফ রহমানের ব্লগ

এফ রহমানের ব্লগ

এফ রহমানের ব্লগ
এফ রহমানের ব্লগ

খিস্ট্রপূর্ব ৫০০ সনে গ্রীক এবং রোমানরা এব্যাকাসের মূলনীতির উপর ভিত্তি করে নতুন গণনাযন্ত্র উদ্ভাবন করেন। ৩০০ খ্রিষ্টাব্দে চীনারা এব্যাকাসের মানোন্নয়ন ঘটিয়ে গানিতিক যন্ত্রে রূপান্তরিত করেন। ৫০০ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপে এব্যাকাসের ব্যবহার শুরু হয়। আজকের দিনের ক্যালকুলেটের মত গণনায় দক্ষ ছিলো না এব্যাকাস যন্ত্র। কিন্তু সাধারণ গণনার ক্ষেত্রে একজন এব্যাকাস ব্যবহারকারী ও একজন ক্যালকুলেট ব্যাবহার কারী একই সময় নেন। কয়েক শতাব্দী ধরে চলে এব্যাকাসের রাজত্ব। তার জায়গা দখল করে আধুনিক ক্যালকুলেটর। শিকার যুগের মানুষেরা তাদের শিকারের সংখ্যার হিসেব রাখত সমপরিমান পাথর দিয়ে। পরবর্তীতে তারা পাথরের গাঁয়ে আচড় কেটে অথবা প্রতীক একে ঠিক রাখত হিসেব। একটা শিকারের জন্য এই চিহ্ন আর দশটা শিকারের জন্য ঐ চিহ্ন। কালে কালে সেই প্রতীক গুলো পরিবর্তিত হতে হতে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। আমরা তাদের চিনি এক দুই তিন, ওয়ান টু থ্রি ইত্যাদি প্রতীকে।

যোগাযোগঃ ফেসবুকে আমি এবং টুইটারে আমি

 এফ রহমানের ব্লগ

ADs by Techtunes ADs

“অসত্যের দাপট ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সত্যের দাপট চিরস্থায়ী।”- হযরত সোলাইমান (আঃ)

ADs by Techtunes ADs
Level 2

আমি সরদার ফেরদৌস। Asst Manager, Samuda chemical complex Ltd, Munshiganj। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 9 বছর 1 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 94 টি টিউন ও 466 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।

আমি ফেরদৌস। জন্ম সুন্দরবনের কাছাকাছি এক জনপদে। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে লেখাপড়া করেছি এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। এরপরে চাকরি করছি সামুদা কেমিকেল কমপ্লেক্স লিমিটেডের উৎপাদন বিভাগে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে। এছাড়া আমি বাংলা উইকিপিডিয়ার একজন প্রশাসক।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

Level 0

ভাবতে পারি নাই ২০ পর্ব পর্যন্ত পাব । ধন্যবাদ । ১ টা বই বের করা যায় না ? ফ্রী অন্তত দিতেন। ১০০ তম
পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম

    @tahmim: না বই বই বের করা যায় না। যেটুকু সম্বল আছে সেটুকু হারিয়ে আমি উদবাস্তু হতে চাইনা। আপনাদের আগ্রহ থাকলে আমি ২০০ পর্বও লিখতে পারবো।

    tahmim আপা বই বের করতে টাকা লাগে। আপনার একান্ত প্রয়োজন হলে নিজে টাকা দেন। ফেরদৌস ভাই লিখা দিব।

zero was first invented by muslims…….n 976 AD the Persian encyclopedist Muhammad ibn Ahmad al-Khwarizmi, in his “Keys of the Sciences”, remarked that if, in a calculation, no number appears in the place of tens, then a little circle should be used “to keep the rows”. This circle the Arabs called صفر ṣifr, “empty”. That was the earliest mention of the name ṣifr that eventually became zero.[8]

Italian zefiro already meant “west wind” from Latin and Greek zephyrus; this may have influenced the spelling when transcribing Arabic ṣifr.[9] The Italian mathematician Fibonacci (c.1170–1250), who grew up in North Africa and is credited with introducing the decimal system to Europe, used the term zephyrum. This became zefiro in Italian, which was contracted to zero in Venetian.

As the decimal zero and its new mathematics spread from the Arab world to Europe in the Middle Ages, words derived from ṣifr and zephyrus came to refer to calculation, as well as to privileged knowledge and secret codes. According to Ifrah, “in thirteenth-century Paris, a ‘worthless fellow’ was called a ‘… cifre en algorisme’, i.e., an ‘arithmetical nothing’.”[9] From ṣifr also came French chiffre = “digit”, “figure”, “number”, chiffrer = “to calculate or compute”, chiffré = “encrypted”. Today, the word in Arabic is still ṣifr, and cognates of ṣifr are common in the languages of Europe and southwest Asia.

    @sheikh nahid: আপনার লিংকের জন্য ধন্যবাদ। আমার মনে হয় না আপনি মন দিয়ে পুরো লেখাটা পড়েছেন। আলোচনার শুরুতে কাদের কথা আলোচনা করা হয়েছে? ভারতীয়দের না মুসলিমদের?

    আচ্ছা পারস্যের আল খোওয়ারিজমি কি মুসলিম ছিলেন? তিনি কি নামাজ পড়তেন? তিনি কোন নবীর উম্মত ছিলেন। আশা করি উত্তর দিবেন।

    @sheikh nahid: Regarding al-Khwārizmī’s religion, Toomer writes:

    Another epithet given to him by al-Ṭabarī, “al-Majūsī,” would seem to indicate that he was an adherent of the old Zoroastrian religion. This would still have been possible at that time for a man of Iranian origin, but the pious preface to al-Khwārizmī’s Algebra shows that he was an orthodox Muslim, so al-Ṭabarī’s epithet could mean no more than that his forebears, and perhaps he in his youth, had been Zoroastrians.

    সুত্রঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Al-Khw%C4%81rizm%C4%AB