ADs by Techtunes ADs
ADs by Techtunes ADs

বিজ্ঞানের খাতা [পর্ব-৩৭] :: গ্যালিলিও গ্যালিলি, সরল দোলকের সুত্র, ভরের নিত্যতা সুত্র।

বিজ্ঞানের খাতা

গ্যালিলিও গ্যালিলি ইতালির পিসা নগরীতে ১৫৬৪ সালের ১৫ নভেম্বর জন্মগ্রহন করেন। তিনি ছিলেন পিতা মাতার সপ্তম সন্তানের মধ্যে জেষ্ঠতম। তার বাবা ভিনসেনজো গ্যালিলি ছিলেন একজন সঙ্গীত বিশারদ এবং তুলার ব্যবসায়ী। সেই সময়ে ডাক্তারদের বেশ নাম যশ ছিলো। তাদের আয় ইনকাম মন্দ ছিলো না। ভিনসেঞ্জো ছেলেকে ডাক্তারী পড়ানোর বাসনা করলেন। তিনি গ্যালিলিও গ্যালিলিকে পড়াশুনা করানোর জন্য ১১ বছর বয়সে জেসুইট মনাসটেরিতে ভর্তি করে দিলেন।

ADs by Techtunes ADs

বিজ্ঞান না ধর্মের পথঃ সাধরনত মিশনারী স্কুল গুলোতে ধর্মের উপর বেশী শিক্ষা দেয়া হয়। তখন ধর্ম আর বিজ্ঞান মুখোমুখি অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না এরকম অবস্থা। চার্চ ধর্মের নামে বিজ্ঞানের উপর খাড়া উচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গ্যালিলিও গ্যালিলি জেসুইটে অনেক কিছু শিক্ষা লাভ করলেন। জ্ঞান শিক্ষার প্রতি তার অদম্য আগ্রহ। চার বছর কেটে গেলো। এরপর গ্যালিলিও গ্যালিলি তার বাবা ভিনসেঞ্জো গ্যালিলিকে জানালো যে সে বিজ্ঞান নয় ধর্ম শিক্ষা করতে চায়। ভবিষ্যতে সে একজন সাধু (মংক) হতে ইচ্ছুক। ভিনসেঞ্জো ছেলের এই সিদ্ধান্তে আশাহত হলেন। তিনি চান না তার জেষ্ঠপুত্র সন্যাসীর জীবন গ্রহন করুক। তিনি গ্যালিলিও গ্যালিলিকে মনাসটেরি থেকে ছাড়িয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনলেন। ঘরে বসে আরো দুটি বছর পার করে দিলেন গ্যালিলিও গ্যালিলি। এরপর ১৭ বছর বয়সে গ্যালিলিও গ্যালিলি পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিতার ইচ্ছানুযায়ী মেডিসিনে ভর্তি হলেন। ভিনসেঞ্জো এবার অনেক খুশী হলেন।

=======================================================================================
বিজ্ঞানের খাতা।

=======================================================================================

সরল দোলকের সুত্রঃ বাইশ বছর বয়সী গ্যালিলিও গ্যালিলি ক্যাথেড্রালে গেছে সেদিন। মাথার উপর একটি দোলক দুলছে। হঠাৎ গ্যালিলিও গ্যালিলি’র মাথায় চিন্তা এলো দোলকটির সামনে পিছনে যেতে ঠিক কতটি সময় লাগে? সে বাসায় ফিরে লম্বা ও খাটো সুতা ব্যবহার করে পরীক্ষা চালালো। দোলকটি সামনে পিছনে যেতে সমান সময় নিলো। গ্যালিলিও গ্যালিলি এমন কিছু আবিষ্কার করল যা আগে কেউ করেনি। গ্যালিলিও গ্যালিলি সুত্রকে কাজে লাগিয়ে তৈরী হলো সরল দোলক । সরল দোলকের সুত্রের উপর ভিত্তি করে সকল ঘড়ি তৈরী করা হয়। সরল দোলকের সুত্র গ্যালিলিও গ্যালিলিকে পরিচিতি এনে দিলো।
একমাত্র অংক ছাড়া অন্য সকল বিষয়ে গ্যালিলিও গ্যালিলি’র ফলাফল খারাপ হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্যালিলিও গ্যালিলি’র পরিবারকে জানালো এরকম হলে তাদের ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন ডিগ্রি নিয়ে বের হতে পারবে না। ভিন্সেঞ্জো আবার চিন্তায় পড়লেন। ছেলেটা তার হাড় মাস জ্বালিয়ে খেলো। গনিতবিদ তুসকান কুওর্টের তত্বাবধানে গ্যালিলিও গ্যালিলিকে গণিত অধ্যায়নে রাখা হলো। ভিন্সেঞ্জো স্বস্তি পেলেন। অংকবিদদের কামাই রোজগার কম নয়। কিন্তু গ্যালিলিও গ্যালিলি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অর্জনের আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিলেন।

বেঁচে থাকার তাগিদে গ্যালিলিও ছাত্র পড়ানো শুরু করলো। অংকের টিউশনি করলে তার জীবনের উদ্দেশ্য ছিলো বড় কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে গনিত বিভাগে চাকুরী করা। সে অনেক জায়গায় আবেদন করলো। কিন্তু কেউই তার প্রতিভার মূল্যায়ণ করলো না। তারা গ্যালিলিও গ্যালিলি’র পরিবর্তে অন্য প্রার্থীদের নির্বাচন করলেন। ভাসমান কিছু বস্তু নিয়ে গ্যালিলিও গ্যালিলি গবেষনা চালিয়ে যেতে থাকলেন। তিনি একটি মাপযন্ত্র নির্মান করলেন। এই যন্ত্রের সাহায্যে তিনি নির্ণয় করতে সক্ষম হন সোনা পানির তুলনায় ১৯.৩ গুন ভারী।

সাহিত্যের উপর একটি আলোচনা গ্যালিলিও গ্যালিলি’র ভাগ্য খুলে দিলো। আকাদেমি অফ ফ্লোলেন্স শতবর্ষ পুরাতন বিতর্ক দান্তের নরকের অবস্থান, আকার আকৃতি নিয়ে আলোচনা করতে চাইলো। গ্যালিলিও গ্যালিলি একজন বৈজ্ঞানিকের দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন। উপস্থিত দর্শক শ্রোতা গ্যালিলিও গ্যালিলি’র ব্যাখায় সন্তুষ্ট হলেন। তাকে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছরের জন্য শিক্ষাদানের জন্য নিযুক্ত করা হলো। এই সেই বিশ্ববিদ্যালয় যারা গ্যালিলিও গ্যালিলিকে একটি সনদ দিতে রাজী হয় নাই।

গ্যালিলিও গ্যালিলি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেন তখন এরিষ্টটলের একটি সুত্রের উপর ব্যাপক তোলপাড় হচ্ছে। ভারী বস্ত হালকা বস্তুর তুলনায় দ্রুত নিচে পড়ে। গ্যালিলিও গ্যালিলি এটা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমান করতে চাইলেন। পাশেই আছে পিসার হেলানো টাওয়ার। ৫৪ মিটার উচূ এই টাওয়ারে গ্যালিলিও গ্যালিলি বেয়ে উঠে গেলেন। সাথে নিলেন বিভিন্ন আকারের বিভিন্ন ওজনের বল। টরে পেনডেন্টে ডি পিসা ১১৭৩ সালে থেকে ১৩৫০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। পিসার হেলানো টাওয়ারটি এখন ৩.৯৭ ডিগ্রি কোনে হেলে আছে। গ্যালিলিও গ্যালিলি টাওয়ারের শীর্ষদেশ থেকে বিভিন্ন আকৃতির বলগুলো গড়িয়ে দিলেন। নিচে ছাত্র- প্রফেসর- জনতার বিশাল ভীড়। সবাই অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন সব বল গুলো একই সাথে একই সময়ে ভূমিতে এসে পতিত হলো। এরিষ্টটল ভূল ছিলেন।

সহকর্মীদের সাথে গ্যালিলিও গ্যালিলি খারাপ ব্যবহার করতেন। একজন জুনিয়র শিক্ষকের পক্ষে সিনিয়রদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে টিকে থাকা অসম্ভব ব্যাপার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্যালিলিও গ্যালিলি সাথে তিন বছর শেষে চুক্তি আর নবায়ন করতে রাজী হলোনা। গ্যালিলিও গ্যালিলি পদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেলেন। ১৫৫৩ সালে গ্যালিলিও গ্যালিলি অনেক টাকার প্রয়োজন হলো। বাবার মৃত্যুর পরে গ্যালিলিও গ্যালিলি এখন পরিবারের প্রধান। বোনের বিয়ের যৌতুক পরিশোধ করতে গ্যালিলিও গ্যালিলিকে প্রচুর ঋণ নিতে হলো।

=======================================================================================
বিজ্ঞানের খাতা।
=======================================================================================

ADs by Techtunes ADs

 এফ রহমানের ব্লগ

ADs by Techtunes ADs
Level 2

আমি সরদার ফেরদৌস। Asst Manager, Samuda chemical complex Ltd, Munshiganj। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 9 বছর যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 94 টি টিউন ও 466 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 0 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 1 টিউনারকে ফলো করি।

আমি ফেরদৌস। জন্ম সুন্দরবনের কাছাকাছি এক জনপদে। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে লেখাপড়া করেছি এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। এরপরে চাকরি করছি সামুদা কেমিকেল কমপ্লেক্স লিমিটেডের উৎপাদন বিভাগে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে। এছাড়া আমি বাংলা উইকিপিডিয়ার একজন প্রশাসক।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

বাহ!পদার্থবিজ্ঞান থিউরির কথাবার্তা!প্রীত হলাম।পদার্থবিজ্ঞান আমার প্রিয় সাবজেক্ট। 😀
যদি কোনদিন E=mc2(Square) নিয়ে লিখতেন………

    @Iron maiden: রসায়নের ছাত্রের ফিজিক্স নিয়ে বকবক করা কি ঠিক হবে! তবে আইনস্টাইন আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাকে নিয়ে লেখাই যায়। ধন্যবাদ।