সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও কি? এবং এসইও কেন করা হয়?

টিউন বিভাগ এসইও
প্রকাশিত
Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো এসইও অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে। এসইও কি এবং এসইও কেন করা হয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত এবং সহজভাবে আপনাদের সাথে তুলে ধরার চেষ্টা করব।

আপনাদের কোন বিষয়ে জানার প্রয়োজন পড়লে আপনি চলে যান কোন সার্চ ইঞ্জিনে এবং সেখানে গিয়ে আপনার কাঙ্খিত বিষয়টি সার্চ করে থাকেন। বর্তমানে অনেক সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে Google, Yahoo, Bing ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হলো গুগল। পৃথিবীর প্রায় ৬৫% সার্চ কভার করে থাকে গুগল।

এসইও বলতে আমরা সংক্ষেপে যা বুঝি তা হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। এখন যদি বলেন সার্চ ইঞ্জিন কি? যেখানে গিয়ে আমরা কোন বিষয়ে জানার জন্য ইন্টারনেটে সার্চ করি সেটিই সার্চ ইঞ্জিন। সেটি হতে পারে গুগল, ইয়াহু, বিং কিংবা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিন। যাইহোক, সার্চ ইঞ্জিন কি সেটি আমরা প্রায় সকলেই জানি।

বর্তমানে ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে একটি ওয়েবসাইট না হলে যেন চলেই না। কিন্তু বর্তমান প্রতিযোগিতার বিশ্বে একটি ওয়েবসাইটে ট্রাফিক পাওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। কেননা বর্তমানে রয়েছে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট। যার ফলে শুধুমাত্র এসইও করা ওয়েবসাইটগুলোকেই সার্চ ইঞ্জিন সার্চ রেজাল্টের প্রথমে দেখায় এবং সেসব ওয়েবসাইট ট্রাফিক বেশি পায়।

আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, আপনার প্রয়োজনে কোনো বিষয় লিখে যখন কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করেন, তখন সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে যেসব ওয়েবসাইট চলে আসে আপনি কিন্তু সেগুলোতেই ক্লিক করেন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে আপনি পরবর্তী পৃষ্ঠায় আর চলে যান না।

এসইও করা কেন দরকার?

seo

এসইও করার মূল উদ্দেশ্য হলো আনপেইড ভাবে অর্গানিক ট্রাফিক ওয়েবসাইটে নিয়ে আসা। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন যাকে সংক্ষেপে এসইও (SEO) বলা হয়। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মূল উদ্দেশ্য হলো একটি ওয়েবসাইটকে অপটিমাইজ করা। এসইও হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর কিছু নিয়মকানুন যা অনুসরণ করলে একটি ওয়েবসাইটকে একটি সার্চ ইঞ্জিন গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং সেটি সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাঙ্কিং করে থাকে।

আপনার সার্চ করা কিওয়ার্ডের সঙ্গে মিল রেখে যেসব ওয়েবসাইটগুলো সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে এসেছে, সেগুলো মূলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে সেসব ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পৃষ্ঠায় এসেছে। এখন আপনারা বুঝতে পারছেন যে একটি ওয়েবসাইটকে এসইও করা কতটা জরুরি।

সার্চ ইঞ্জিনের সুনির্দিষ্ট কতগুলো মেথড রয়েছে। যেগুলো অনুসরণের করলে একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন এর প্রথম পেজ এর দিকে দেখানো যায়। আর কোনো ওয়েবসাইট কে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথমে নিয়ে যাওয়াই হচ্ছে এসইও এর মূল উদ্দেশ্য। একটি ওয়েবসাইটকে দুই ভাবে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথমে নেওয়া যায়। একটি হলো পেইড ট্রাফিক অন্যটি হলো অর্গানিক ট্রাফিক।

পেইড ট্রাফিকঃ এ পদ্ধতিতে কোন ওয়েবসাইটকে র‌্যাঙ্কিং করাতে হলে সেই সার্চ ইঞ্জিনকে টাকা পেইড করতে হয়। সেটি হতে পারে এই গুগল, ইয়াহু, বিং বা যেকোন সার্চ ইঞ্জিন। উদাহরণ সরূপ নিচের চিত্রটি দেখুন।

আমি এখানে buy mobile লিখে গুগলে সার্চ করেছিলাম। এখানে ওয়েবসাইটটির প্রথমে দেখতে পাচ্ছেন ছোট করে ad লেখা। অর্থাৎ এ ওয়েবসাইটটি buy mobile কীওয়ার্ডের উপর ট্রাফিক নেওয়ার জন্য গুগলকে টাকা দিচ্ছে। সেজন্য এটি সার্চ ইঞ্জিনের প্রথমে দেখাচ্ছে। এই এড ইম্প্রেশন এবং প্রতি ক্লিকের জন্য সেই ওয়েবসাইটকে নিদিষ্ট অংকের একটি অ্যামাউন্ট দিতে হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিনকে।

এটি কিন্তু ওই ওয়েবসাইটের অর্গানিক ট্রাফিক নয়। সেই ওয়েবসাইটে এড প্রদর্শন এবং ক্লিকের জন্য কিন্তু গুগল টাকা কেটে নিচ্ছে তার কাছ থেকে। এছাড়া এখনই যদি সেই ওয়েবসাইটটি এড দেখানো বন্ধ করে দেয় তাহলে কিন্তু এই কী-ওয়ার্ড এর ওপর সে কোন ট্রাফিক পাবেনা।

অর্গানিক ট্রাফিকঃ এসইও করার মূল উদ্দেশ্যই হলো একটি ওয়েবসাইটে অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে আসা। নির্দিষ্ট কিছু কিওয়ার্ড কে লক্ষ্য করে একটি ওয়েবসাইট কে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে নিয়ে আসা। এর জন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিনকে টাকা পে করে ওয়েেবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথমে আনা হয়। যেমনটি নিচে দেখছেন buy mobile লিখে সার্চ করার পর উপরের ad এর নিচে আরো কিছু ওয়েবসাইট।

ইঞ্জিন মূলত একটি উত্তরদাতা যন্ত্র। লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইটের মধ্যে কোন ওয়েবসাইটটি গ্রাহকের জন্য তথ্যবহুল সেটি সার্চ ইঞ্জিন বাছাই করে থাকে। ইন্টারনেটে যত ভিডিও, ব্লগ, ইমেজ রয়েছে সবই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ করে থাকে। এগুলোর মধ্যে কোনটি তথ্যবহুল সেটি গুগল বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিন সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে নিয়ে আসে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর কাজটি করে থাকে ইন্টারনেটে যে সকল তথ্য পাওয়া যায় তা ক্রলিং এবং ইনডেক্সিং করার মাধ্যমে। যে তথ্যটি গ্রাহকের জন্য সবচাইতে বেশি উপযোগী এবং তথ্যবহুল সেটি সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাঙ্কিং করে থাকে এবং সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে নিয়ে আসে।

এবার আপনারা সবাই বুঝতে পেরেছেন যে, এসইও অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কেন করা হয়। একটি ওয়েবসাইটে অর্গানিক ভিজিটর এবং ট্রাফিক পাওয়ার জন্যই মূলত এসইও করা হয়।

একটি ওয়েবসাইটকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই সে ওয়েবসাইটকে এসইও এর নিয়মকানুন অনুযায়ী তৈরি করতে হবে। আর তা না হলে ওয়েবসাইটটির অস্তিত্বই থাকবে না ইন্টারনেট জগতে। কেননা যে ভিজিটরের উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়েছে, সেই ভিজিটর যদি না আসে তবে কোনো উদ্দেশ্যই সফল হবে না। তাই একটি ওয়েবসাইটকে অনলাইন প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকতে এসইও অনুযায়ী তৈরি এবং এর কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে।

বন্ধুরা এই ছিল এসইও সম্পর্কে আজকের ছোট্ট একটি টিউন। আশা করছি এসইও সম্পর্কে টিউনটি আপনারা বুঝতে পেরেছেন। সম্পূর্ণ টিউনটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 মাস 1 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 102 টি টিউন ও 49 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 12 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

২ নম্বর ও ৩ নম্বর ইমেইজ গুলো Squeezy হয়ে গিয়েছে। ২ নম্বর ও ৩ নম্বর ইমেইজ গুলো পরিবর্তন করুন।

টিউন শেয়ার করে সাবমিট করা হয়নি। টিউন শেয়ার করে সাবমিট করুন।