ADs by Techtunes tAds
ADs by Techtunes tAds

প্রযুক্তির সাথে সম্পর্কিত কিছু রোগব্যাধি!

বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই। আশা করি ভালো। আজ কথা বলবো প্রযুক্তি ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত কিছু রোগ ব্যাধি নিয়ে। তো চলুন শুরু করা যাক।

ADs by Techtunes tAds

আমরা প্রতিনিয়তই প্রযুক্তির মাঝে ডুবে আছি। প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে ও যাচ্ছে। আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য আমরা সেগুলো প্রতিনিয়তই ব্যবহার করে যাচ্ছি। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো সম্পর্কে সচেতন হচ্ছি না। তাই আসুন দেখে নেয়া যাক আমাদের নিত্য ব্যবহার্য কিছু প্রযুক্তি ও সেগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তৈরি হওয়া নানান রোগব্যাধি।

ক্যান্সার ও টিউমার

প্রযুক্তির মধ্যে আমরা যেটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকি সেটা হলো মোবাইল ফোন বা সেলুলার ফোন। এটি নব্বই শতকের দিকে আমেরিকাতে সর্বপ্রথম প্রসার লাভ করে। আর এর পর থেকেই তা সারা বিশ্বে সমাদৃত হতে থাকে। বর্তমান যুগের ফোনগুলোতে কিছু বাড়তি সুবিধা থাকায় এই ফোন আমাদের মনোযোগের অনেক অংশই দখল করে আছে। আমরা আর আগের মতো পরিবেশ সচেতন নই। কিন্তু এই মোবাইল ফোনেরও অনেক ক্ষতিকর দিক আছে যা থেকে তৈরি হচ্ছে নানা রোগব্যাধি। তার আগে চলুন দেখে নেয়া যাক মোবাইল ফোন কীভাবে কাজ করে  সেটা। তাহলে অনেক সহজেই বুঝতে পারবেন বিষয়গুলো।

ফোনগুলো কাজ করে মূলত নিকটস্থ বেইজ স্টেশন থেকে যাকে আমরা টাওয়ার হিসেবে জানি সেটাতে সিগনাল পাঠিয়ে। আর এই সিগনালটি কাজ করে রেডিও কম্পন তরঙ্গের মাধ্যমে। এই রেডিও কম্পন তরঙ্গগুলো বের হয় এন্টেনা থেকে। আর এই এন্টেনা ফোনের ভিতরেই থাকে। পুরাতন আমলের ফোন দেখলে বুঝতে পারবেন। সেসব ফোনে এন্টেনা থাকতো। এখন নেটওয়ার্কের প্রসারের কারণে অত বড় এন্টেনা লাগে না। আর আমরা যখন কথা বলি তখন এই তরঙ্গগুলো দ্রুত আমাদের মাথার কাছ দিয়ে পার হয়ে নিকটস্থ টাওয়ারগুলোতে যায়। তাই এই তরঙ্গগুলো যখন যায় আমাদের শরীরের কোষগুলো সেগুলো দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সবাই এটা জানেন যে যেহেতু এই তরঙ্গগুলো তেজস্ক্রীয় তাই সেগুলো আমাদের শরীরের কোষগুলোকে ধ্বংস করতে যথেষ্ট। তরঙ্গগুলো আমাদের কোষের ডিএনএ'র রাসায়নিক বন্ধনগুলো ভেঙে দেয় ও রোগ ব্যাধির সৃষ্টি করে।

এর মাধ্যমে স্কিন ক্যান্সার ও ব্রেইন টিউমারের ঝুঁকি বাড়ে। শুধু তাই নয় আজকাল এই স্মার্টফোনের কারণে রাস্তাঘাটে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে।

একইভাবে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার আমাদের কাজকে সহজ করলেও এটিও আমাদের অনেক রকম সমস্যা তৈরি করে। কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ভিতরে ফ্যান থাকে যা গরম বাতাস নির্গমন করে। যদিও ফ্যানটি লাগানো হয় ভিতরে যন্ত্রাংশ সমূহের তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য কিন্তু এই গরম বাতাস মারাত্মকভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে থাকে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের সময় ল্যাপটপের চারদিকে যে তড়িৎ চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হয় তাও ক্যান্সার ও টিউমারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এছাড়াও রেডিও কম্পন তরঙ্গের ভূমিকাটা মোবাইল ফোনের মতোই।

এছাড়াও ওয়াইফাই ব্যবস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর তরঙ্গ নির্গত হয়। যা একজনকে খুব দ্রুতই দুর্বল করে দেয়। যেমন স্বাস্থ্যহানি, শারিরীক দুর্বলতা, বিকৃত মানসিকতা, ঘন ঘন মাথা ব্যাথা ইত্যাদি তৈরি করে। তেজস্ক্রীয়তা নিয়ে হিরোশিমা-নাগাসাকি'র ঘটনাগুলো সবাই জানেন। আমি আরেকটি উদাহরণ দিচ্ছি।

ইউক্রেনের চিরনোবিল নামক একটি পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রে একবার ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেয়। সামান্য পানির পরিমাণ কম বেশির জন্য পুরো একটা প্লান্ট ধ্বংস হয়। সেই থেকে ঐ বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশে ৭০ মাইলের মধ্যে এখনও কোনো প্রকার জনবসতি নেই।

ADs by Techtunes tAds

পরামর্শ: ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। চেষ্টা করুন ফোন যথাসম্ভব দূরে রাখতে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে। ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় তা দেহ থেকে বেশ খানিকটা দূরে রেখে কাজ করুন।

নির্ঘুমতা বা ইন্‌সমনিয়া

মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার রাত জেগে ব্যবহারের কারণে অনেকেই ইন্‌সমনিয়া'য় ভোগেন। তাদের সমস্যাটা হলো ঘুম আসে না। এটা সাধারণত হয়ে থাকে যখন উপরে উল্লেখিত তরঙ্গগুলো মস্তিষ্কের বিশ্রামের কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয় বা ঠিকভাবে কাজ করতে দেয় না। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটা আবার চরম আকার ধারণ করে। এসব থেকে বাঁচতে কিছু বাজে ধরনের সিডেটিভ সেবন করেন তারা ঘুমানোর জন্য। পরবর্তীতে সেসবের উপর নির্ভরতা আর কমাতে পারেন না।

পরামর্শ: ঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ভোরে ঘুম থেকে ওঠার চর্চা করা। আর ফোন বা কম্পিউটার শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করার অভ্যাস তৈরি করা।

সিজোফ্রেনিয়া

মানসিক রোগগুলোর মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া অন্যতম। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ। আর এটার কারণও অনেক। তবে তার মধ্যে প্রযুক্তিও অন্যতম। যারা একটানা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন প্রযু্ক্তি ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও প্রবল মানসিক চাপ, কাজের চাপ, হতাশাগ্রস্ততা ইত্যাদিও এর কারণ। বক্তব্যের সাথে যুক্তির মিল থাকে না, স্মরণশক্তি কমে যায়, সব মানুষকে সন্দেহের চোখে দেখে ও সে অনুযায়ী আচরণ করে। এছাড়াও ভ্রান্ত বিশ্বাস, হ্যালুসিনেশান দেখাসহ নানা রকম সমস্যা তৈরি করে।

পরামর্শ: কাজের বাইরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়া, বিনোদনমূলক কাজে যথেষ্ট সময় ব্যয় করা, ভ্রমণ করা ইত্যাদি

 

শিশুদের দৈহিক বিকাশ না ঘটা

একটা শিশু ঘরে বসে ফোন বা ল্যাপটপে আসক্ত হয়ে যায়। ল্যাপটপে সারাদিন গেইম খেলে। বাইরে খুব একটা বের হয় না। শরীরচর্চা করে না। তাই তার দৈহিক বিকাশ ঘটে না ঠিকভাবে। এ কারণে পড়াশোনা ব্যহত হয়। এছাড়াও বাইরে শারীরিক কাজ না করায় অবেসিটি বা স্থুলতা বা মোটা হবার প্রবণতা বাড়ে। যার কারণে একটি শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে বেমানান হয়ে বেড়ে ওঠে।

পরামর্শ: শিশুদেরকে আনন্দের সাথে রুটিন পালন করা শেখানোর চর্চা করুন। চাপ দিয়ে নয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য সময় ঠিক করে দিন আনন্দের সাথে।

উপরের কারণগুলো ছাড়াও এসব প্রযুক্তি মানুষের আরো নানা রোগব্যাধি তৈরি করে থাকে। তবে সেসব কারণে যে প্রযুক্তি ক্ষতিকর তা বলা যাবে না। কিছু বিষয় মেনে চললে এইসব রোগব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

পরিশেষে, টেকটিউনস হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার এক সুবিশাল প্ল্যাটফর্ম। শুধু জেনেই বসে থাকবেন না। এই জ্ঞানগুলো ছড়িয়ে দিন তাদের নিকট যাদের কাছে এই টিউনগুলো পৌঁছানো সম্ভব হয় না। প্রযুক্তিকে ভালবাসুন, প্রযুক্তির সাথে থাকুন। টেকটিউনসের সাথে থাকুন।

আজকের মতো এ পর্যন্তই। সামনে আবারও হাজির হবো নতুন কোনো তথ্য নিয়ে। আর টিউনটি কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। টিউন বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে টিউমেন্ট বক্সে প্রশ্নটি করুন। এছাড়াও ফেইসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

ADs by Techtunes tAds

ফেইসবুকে আমি: Mamun Mehedee

ADs by Techtunes tAds
Level 0

আমি মামুন মেহেদী। Civil Engineer, The Builders, Bogra। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 বছর 9 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 93 টি টিউন ও 372 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 7 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।

আমি আপনার অবহেলিত ও অপ্রকাশিত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

অসাধারণ টিউন। কিন্তু একটা কথা, এখানকার প্রত্যেকটা তথ্য কতটুকু সঠিক সেটা কিভাবে বুঝবো? আপনি তথ্য গুলা কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন?