ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি নিয়ে কিছু কথা

Level 6
এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। 'ওয়াইফাই' যে শব্দটির নাম শুনলে সবার আগে আমাদের মাথায় চলে আসে ফ্রি ইন্টারনেট এর কথা। তবে হ্যাঁ, ওয়াইফাই হলো জনপ্রিয় একটি ওয়ারলেস নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি, যেটি তারবিহীন উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে থাকে।

ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির মাধ্যমে আনলিমিটেড ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে ওয়াইফাই বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে যেমন এয়ারপোর্ট কিংবা শপিং মল, স্কুল-কলেজ সহ যেকোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি-বেসরকারি সব জায়গাতেই দেখা যায়। মূলত যেখানে একাধিক ব্যবহারকারীকে একই নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট লাইন ব্যবহার করতে হয় সেখানে অতিরিক্ত খরচ থেকে মুক্তি পেতে এ ধরনের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। যেগুলোকে বলা হয় 'ওয়াইফাই জোন'। যেখানে কোনো কোনোটি ফ্রী ব্যবহার করা যায়, আবার কোনোটি প্রাইভেট ব্যবহারের জন্য পাসওয়ার্ড দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

Wi-Fi শব্দের পূর্ণ অর্থ হলো Wireless Fidelity (ওয়ারলেস ফিডেলিটি)। কম্পিউটার বা ডিজিটাল বৈদ্যুতিক ডিভাইস গুলোকে তারবিহীন উপায়ে ইন্টারনেট সংযুক্ত করার প্রযুক্তিকে ওয়াইফাই বলে। ওয়াইফাই একটি ওয়ারলেস বা তারবিহীন প্রযুক্তি। ওয়াইফাই সমর্থিত ডিভাইস গুলো যেমন মোবাইল ল্যাপটপ ডিজিটাল অডিও প্লেয়ার প্রভূতি একটি ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস পয়েন্টের মাধ্যমে ইন্টারনেট এর সাথে যুক্ত হতে পারে।

ইন্টারনেট এক্সেস এর জন্য ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক যুক্ত এলাকাকে হটস্পট বলে। ওয়াইফাই এর মাধ্যমে বাসায় ইন্টারনেট এক্সেস এর জন্য যে রাউটার ব্যবহার করা হয় সেটি মূলত হটস্পট প্রদান করে। এছাড়া আপনি যদি আপনার মোবাইল থেকে কাউকে নেটওয়ার্ক শেয়ার করতে চান তবে সেখানে হটস্পট চালু করতে হয়। হটস্পট কি, এটি ইতিমধ্যেই হয়তোবা আপনাদের জানা রয়েছে। যেটি সম্পর্কে আপনাকে আর বিস্তারিত বলতে হবে না।

ওয়াইফাই কে আমরা মূলত চিনি ফ্রী ইন্টারনেট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে। তবে চলুন জেনে নেয়া যাক ওয়াইফাই এর বেশ কিছু সুবিধা সমূহ।

ওয়াইফাই এর সুবিধা

  • ১. ওয়াই-ফাই এর কভারেজ সীমিত পরিসর থেকে নিয়ে বিস্তৃত পরিসর জুড়ে পাওয়া যায়।
  • ২. ওয়াইফাই এর ব্যান্ডউইথ অনেক বেশি পাওয়া যায়। ওয়াইফাই 2.4 গিগাহার্জ এ 450 এমবিপিএস এবং 600 এমবিপিএসের মধ্যে গতি সমর্থন করবে। 5 গিগাহার্টজ 1300 এমবিপিএস পর্যন্ত গতি সমর্থন করবে। তবে এজন্য অবশ্যই সেই রাউটারকে সেই গতি সমর্থন করতে হবে।
  • ৩. রাউটারের এক্সেস পয়েন্ট এর আওতার মধ্যে থাকা সকল ডিভাইসগুলো ইন্টারনেট অ্যাকসেস সুবিধা পায়। ফলে নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক ভুক্ত জায়গাতে সকল ডিভাইস একসঙ্গে কানেক্ট হতে পারে।

ওয়াইফাই এর অসুবিধা

  • ১. ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির সবচাইতে বড় অসুবিধা হলো এটি কেবল হটস্পট বা নির্দিষ্ট জায়গা জুড়েই ব্যবহার করা যায়।
  • ২. ওয়াই-ফাই এর কাভারেজ খুব বেশি এলাকায় পাওয়া যায় না, ফলে নির্দিষ্ট জায়গাতে থেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়।
  • ৩. ওয়াইফাই প্রযুক্তিতে ডাটা চলাচলের গতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

বন্ধুরা হয়েছিল ওয়াইফাই প্রযুক্তি নিয়ে আজকের টিউন। আশা করছি এই টিউনটি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে। দেখা হবে পরবর্তী টিউনে আরো নতুন কিছু নিয়ে ইনশাআল্লাহ। ততক্ষণ পর্যন্ত টেকটিউনস এর সঙ্গেই থাকুন। আসসালামু আলাইকুম।

Level 6

আমি আতিকুর ইসলাম। এইচএসসি ২য় বর্ষ, জুমারবাড়ী আর্দশ ডিগ্রি কলেজ, গাইবান্ধা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 5 মাস 1 সপ্তাহ যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 100 টি টিউন ও 49 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 11 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 2 টিউনারকে ফলো করি।

মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। তারপর কিছুদিন সুখ-দুঃখ ভোগ করে। তারপর মৃত্যুবরণ করে। এটাই মানুষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আমিও সেরকম একজন


টিউনস


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস